বিশ্ব সংবাদ

নভেম্বরেও তেলের উৎপাদন বেড়েছে ওপেক দেশগুলোয়

শেয়ার বিজ ডেস্ক : টানা পাঁচ মাসের মতো বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পণ্যটির উৎপাদন কমাতে কয়েক দফায় চুক্তি করেছে  পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক)। তারপরেও গত নভেম্বরে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে সাত লাখ ব্যারেল তেলের বেড়েছে বিশ্বজুড়ে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার ওপেক প্লাস সদস্য দেশগুলোর বৈঠক হয়। তারা জানুয়ারি থেকে প্রতিদিন ২০ লাখ উৎপাদন হ্রাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া কথা। চুক্তির মেয়াদ তিন থেকে ছয় মাস বাড়তে পারেও বলেও জানা গেছে। খবর : রয়টার্স। 

চলতি বছরের মতো টালমাটাল পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনই হয়নি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার। গত জুনে জ্বালানি তেলের দাম কমে ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনি¤েœ পৌঁছায়। করোনা মহামারির মধ্যে বৈশ্বিক চাহিদায় রেকর্ড পতন, রাজনৈতিক বিবেচনায় সৌদি আরব ও রাশিয়ার মধ্যকার মূল্যযুদ্ধ এমন নানা কারণে বছরের শুরু থেকে জ্বালানি পণ্যটির দাম টানা কমতির পথে ছিল। ইতিহাসে এবারই প্রথম জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি শূন্য ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। বছরের শেষ ভাগে এসে দাম কিছুটা বাড়লেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চাহিদা ও জোগানে ভারসাম্য ফেরানো জরুরি। চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনা অনেকটাই নিভর করছে মহামারি পরিস্থিতির ওপর। আগামী দিনগুলোয় করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা বাড়তে পারে। নতুবা আরও কমবে। অন্যদিকে জ্বালানি পণ্যটির জোগান সীমিত করতে ভূমিকা রাখছে বৈশ্বিক উত্তোলন হ্রাস চুক্তি। ওপেক প্লাসের আওতায় এ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। মেয়াদ শেষে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন সীমিত রাখার ব্যাপারে চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর বাধ্যবাধকতা থাকবে না। ফলে যে কোনো দেশ চাইলে ইচ্ছামতো অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করতে পারবে। এতে আগামী দিনগুলোয় জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা জ্বালানি পণ্যটির বাজারে নতুন করে চ্যালেঞ্জের জš§ দিতে পারে।

এমন টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই বৈঠকে বসেছে ওপেক প্লাস। ৩০ নভেম্বর ওপেক সদস্যদের ১৮০তম মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন অর্থাৎ ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ওপেক-নন ওপেক দেশগুলোর ১২তম মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠক। প্রতিবার এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায়। তবে এবার করোনা মহামারির কারণে দুটো বৈঠকই অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে। স্বাভাবিকভাবেই এবারের বৈঠকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক উত্তোলন হ্রাস চুক্তির মেয়াদ আরো বাড়ানোর বিষয়টি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..