দিনের খবর সারা বাংলা

নরসিংদীতে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, বাড়েনি সচেতনতা

শরীফ ইকবাল রাসেল, নরসিংদী: দ্বিতীয় দফায় দেশের অন্যান্য এলাকার মতো নরসিংদীতেও প্রতিদিনই বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। কিন্তু জনসাধারণের মাঝে বাড়ছে না সচেতনতা। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় মাস্ক ব্যবহারসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই পরিচালিত হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। করা হচ্ছে জরিমানাও। তারপরও মাস্ক পরতে আগ্রহী নন অনেকে।

শীতের সকালের বেশিরভাগ সময় চোখে পড়ছে কুয়াশা। সঙ্গে বাড়ছে কর্মব্যস্ততা। এর সঙ্গে বেড়েছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব। শীতজনিত রোগের পাশাপাশি দিন দিন বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যাও। এরপরও অনেকই মানছে না স্বাস্থ্যবিধি। নেই সচেতনতাও। দূরত্ব বজায় রাখা বা মাস্ক ব্যবহার করা হচ্ছে না।

জানা গেছে, অনেকে কর্মের সন্ধানে ছুটছেন মাঠে-ঘাটে, অফিসপাড়া কিংবা আদালত পাড়ায়। চলার পথে ব্যবহার করছে রিকসা, অনেকে যাচ্ছেন পায়ে হেটে। তবে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। মাস্কও নেই অনেকেরই। কারও কারও মাস্ক থাকলেও তা বুক পকেটে বা থুতির নিচে রাখা হচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক কিংবা ক্রেতা সবারই একই অবস্থা। ফলে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নিছক প্রচারেই সীমাবদ্ধ বলে অনেকেই মনে করছেন।

মাধবদী থেকে আদালতে হাজিরা দিতে আসা রহিম নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘মাস্ক পরেছিলাম। কিন্তু মুখে মাস্ক পড়ে উকিলের সঙ্গে কথা বলতে সমস্যা হয় বিধায় খুলে ফেলেছি। কাজ শেষ হলে আবার পরে নেব।’

তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে আরও কয়েকজন বলেন, মাস্ক ভুলে পকেটে রয়েছে, পড়তে মনে থাকে না। আর এটা পরে বেশি সময় থাকাও যায় না। এদিকে তাদের মধ্যে নেই সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার প্রবণতাও। অনেক স্থানে মেলা ও হাটবাজারগুলো লোকে লোকারণ্য থাকলেও নেই কোনো প্রশাসনিক বা বাজার কমিটি কর্তৃক নিয়ন্ত্রণ। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

এ বিষয়ে উত্তরণ সামাজিক সংগঠনের সভাপতি কেএইচ খলিলুর রহমান আপেল বলেন, ‘বিগত দিনে করোনার তীব্রতায় এ সংগঠনের পক্ষ থেকে সচেতনতাসহ খাদ্যসামগ্রী, মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ঢেউকেও মোকাবিলায় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সচেতনতা সৃষ্টিতে ইতোমধ্যে জেলায় একটি র‌্যালি করা হয়েছে। আগামীদিনেও প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সামাজিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে সচেতনতার লক্ষ্যে প্রচারণা শুরু হলেও সরকারিভাবে স্বাস্থ্যবিভাগের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আলোকিত নরসিংদী’র সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন রাসেল বলেন, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হলেও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে কার্যক্রম চোখে পড়ছে না।’

এ বিষয়ে নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিটি হাসপাতালে প্রতিদিন করোনার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় প্রেরণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে করোনা রোগী শনাক্ত হলে তাদের আইসোলেশনের ব্যবস্থা, টিলিমেডিসিনের মাধ্যমে সেবা ও হাসপাতালগুলোতে ব্যানার টানিয়ে তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ পাশাপাশি একটি কৌশলপত্র কেবিনেটে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, সর্বশেষ হিসেবে অনুযায়ী জেলায় এ পর্যন্ত করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৯৫৫ জনের, করোনা শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ৬৫১  জনের। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৪৮ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৮ জন, পলাশে দুজন, বেলাবোতে ছয়জন, রায়পুরায় ছয়জন, মনোহরদীতে দুজন ও শিবপুরে চারজন রয়েছেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..