সারা বাংলা

নরসিংদীতে বাড়িতেই সুস্থ হচ্ছেন করোনা আক্রান্ত অধিকাংশ রোগী

প্রতিনিধি, নরসিংদী: নরসিংদীতে জেলাজুড়ে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। নরসিংদী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্ত এক হাজার ৭৭৯ জন রোগীর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৫৩৫ জন।

নরসিংদী জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটন জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের দিকনির্দেশনা মেনে চলা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশের জটিল উপসর্গ না থাকায় তুলনামূলকভাবে করোনা রোগীরা দ্রুত সেরে উঠছেন। জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যার যার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। সবার সমন্বিত উদ্যোগ আর পরিশ্রমের এই সুফল পাচ্ছেন নরসিংদীবাসী।

সংক্রমণের প্রথম পর্যায় থেকেই সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডি?সিআর) নরসিংদীকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। বহু চেষ্টা করেও নরসিংদীকে অবরুদ্ধ রাখতে না পারা এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানাতে না পারায় করোনার সংক্রমণ দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলাজুড়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের তালিকায় ছিলেনÑস্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এই সময়ের মধ্যে জেলাজুড়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৯ হাজার ১৯৩ জনের। ৪১ জন ছাড়া সবার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সংক্রমিত হয়েছেন এক হাজার ৭৭৯ জন। অধিকাংশই নিজেদের বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। অন্যরা কভিড ডেডিকেটেড ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল এবং বিভিন্ন উপজেলা কমপ্লেক্সসহ রাজধানীর ঢাকার কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

জেলার ছয় উপজেলায় সুস্থতার হার হিসাব করে দেখা গেছে, সদর উপজেলায় ১ হাজার ৭৭ জনের মধ্যে ৯৩৪ জন, শিবপুরে ১৭৮ জনের মধ্যে ১৫৭ জন, পলাশে ১৫২ জনের মধ্যে ১৪০ জন, রায়পুরায় ১৩৫ জনের মধ্যে ১২২ জন, বেলাবতে ১১৫ জনের মধ্যে ৯৭ জন এবং মনোহরদীতে ১২২ জনের মধ্যে ৮৫ জন সুস্থ হয়েছেন। আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি সদর উপজেলায় কিন্তু সুস্থতার হার সবচেয়ে বেশি পলাশ উপজেলায় এবং সবচেয়ে কম মনোহরদী উপজেলায়। এই নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত মোট সুস্থ এক হাজার ৫৩৫ জন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুস্থ হওয়া রোগীদের মধ্যে অধিকাংশরাই বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে দু’জন আক্রান্ত ব্যক্তি কভিড ডেডিকেটেড ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নরসিংদী জেলা হাসপাতালে আইসোলেশনে আছেন এবং বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন ২০৩ জন। তবে এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়ে জেলায় মারা গেছেন জেলার তালিকাভুক্ত ৩৯ জন। তাদের মধ্যে সদর উপজেলার ২৩ জন, বেলাব উপজেলার ছয়জন, রায়পুরা উপজেলায় পাঁচজন, মনোহরদী উপজেলা ও পলাশ উপজেলায় দু’জন করে এবং শিবপুর উপজেলায় একজন রয়েছেন।

নরসিংদী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাখাওয়াত জামিল সৈকত করোনা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার পর তিনি জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর কর্মস্থলের ডরমিটরিতে থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের চারজন সহকর্মী একইদিনে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর ডরমিটরিতেই আইসোলেটেড অবস্থায় ছিলাম। বিশেষ শারীরিক জটিলতা তৈরি না হওয়ায় হাসপাতালে যেতে হয়নি। চিকিৎসক ও সহকর্মীদের সহযোগিতা ও সমর্থন ওই দিনগুলোয় সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল।’ সুস্থ হয়ে ওঠা বেশ কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনায় আক্রান্ত হলে কোনো ধরনের ভয় না পেয়ে মনোবল দৃঢ় রাখতে হবে। জটিল কোনো উপসর্গ দেখা না দিলে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করলে বাড়িতে থেকেই কভিড-১৯ রোগ থেকে সেরে ওঠা সম্ভব। জটিল কোনো উপসর্গ দেখা না দিলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ারও কোনো প্রয়োজন নেই বলেও মনে করেন তারা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..