সারা বাংলা

নরসিংদীতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার সামগ্রীর তীব্র সংকট

শরীফ ইকবাল রাসেল, নরসিংদী: নরসিংদীতে বেশিরভাগ ফার্মেসিতেই পাওয়া যাচ্ছে না জীবাণুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজার। সংকট সৃষ্টি হয়েছে হ্যান্ডরাব হ্যাক্সিসলসহ জীবাণুনাশক তরল পদার্থেরও।

হঠাৎ করোনাভাইরাস আতঙ্কে জীবাণুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে ফার্মেসিগুলোতে। এমনকি কেমিক্যালের দোকানগুলোতেও মিলছে না হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির কাঁচামাল। ফলে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সাধারণ মানুষও নিজেদের জীবাণুমুক্ত করতে পারছে না।

এদিকে শহরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে বর্তমানে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য চিকিৎসক ও নার্সদের কোনো ব্যক্তিগত সুরক্ষা নেই বলে জানান তারা। সবার মধ্যে করোনাভাইরাস আতঙ্কে এক ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কাজ করছে। এ কারণে রোগীরাও প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না।

নরসিংদী কলেজের শিক্ষার্থী হোসেন জাহাঙ্গীর জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে শহর কিংবা গ্রামাঞ্চলের ফার্মেসি, ওষুধের দোকানগুলোতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার পাওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে তারা নিজেরাই হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে নিজেদের কাজ সেরে নিচ্ছেন।

অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অনির্বানের সভাপতি মাহামুদুল হাসান জানান, প্রত্যাশা অনুযায়ী কোথাও সাধারণ মানুষের হাতে জীবাণুনাশক স্যানিটাইজার মিলছে না। এ কারণে সংগঠনের পক্ষ থেকে আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল, গ্লিসারিন, ডিস্টিল ওয়াটার ও লেমন ওয়েলের সংমিশ্রণে জীবাণুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করেছি। আর এই তৈরিকৃত জীবাণুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে শহরের পাঁচটি পয়েন্টে জনগণ চলাচলকারী যানবাহন জীবাণুমুক্ত করার কাজ করছি। তবে আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহলের অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়ে যাওয়ায় নিজেদের মতো করে কাঁচামাল সংগ্রহ করে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ১০টি সংগঠন একত্রিত হয়ে জীবাণুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে যানবাহন জীবাণুমুক্ত করতে আজ থেকে কাজ শুরু করেছে।

গতকাল দুপুরে নরসিংদীর ভেলানগর, উপজেলা মোড়, বাসস্ট্যান্ড, সাটিরপাড়া সদর হাসপাতাল গেট ও জেলা হাসপাতাল গেটসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশিরভাগ ফার্মেসিতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার খোঁজ করে পাওয়া যায়নি। দুই একটি দোকানে মিললেও দাম নিচ্ছে ৫/৬ গুণ। আর কেমিক্যালের দোকানগুলোতে চড়া দামেও আর মিলছে না হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির উপকরণ।

জীবাণুনাশক এ তরল পদার্থের গুরুত্ব সম্পর্কে নরসিংদী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আবু কাউছার সুমন জানান, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসকদের সুরক্ষায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হ্যান্ড স্যানিটাইজার না থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে।

এদিকে সরবরাহ না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন ফার্মেসির দোকান মালিলকগণ। দেশে করোনাভাইরাস আতঙ্কে হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানি সরবরাহ করতে পারছে না।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..