বিশ্ব সংবাদ

নরেন্দ্র মোদির সাত বছরে ভারতের ভঙ্গুর অর্থনীতি

বিবিসির বিশ্লেষণ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ভারতের অর্থনীতি দিন দিন ভঙ্গুর হয়ে আসছে। বিশেষত কভিড মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ দেশটির অর্থনীতিকে তলানিতে নামিয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুই মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের সাত বছর অতিবাহিত হয়েছে। এ সাত বছরে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারতের অর্থনীতির সাতটি ধূসর দিক তুলে ধরেছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে।

ধীরগতির প্রবৃদ্ধি: নরেন্দ্র মোদির সরকার আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতের জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিলেন পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার, যা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয়ের পরেও কমবেশি তিন ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু কভিড-পূর্ববর্তী পর্যালোচনায় দেখা গেছে- সেটি সর্বোচ্চ দুই দশমিক ছয় ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। মহামারির কারণে কমতে পারে আরও অন্তত ২০০ থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার।

মোদি যখন ক্ষমতায় আসেন তখন ভারতের জিডিপি ছিল সাত থেকে আট শতাংশ, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ তিন মাসে নেমে আসে তিন দশমিক এক শতাংশে। ২০১৬ সালের মুদ্রা নিষেধাজ্ঞা দেশের অর্থপ্রবাহ থেকে ৮৬ শতাংশ নগদ অর্থ সরিয়ে নেয়।

চাকরি হারানোর সংখ্যা বাড়ছে: ভারতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেকারত্ব ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ২০২১ সালের শুরুতে এসে অন্তত আড়াই কোটি মানুষ কাজ হারায় আর দারিদ্র্যসীমায় ঢুকে যায় আরও সাড়ে সাত কোটি মানুষ। অজিত রানাদে বলছেন, একই সময়ে প্রতি বছর যে দুই কোটি কাজের সুযোগ তৈরি করা দরকার সেখান থেকেও অনেক দূরে মোদি সরকার।

রপ্তানিতে ভাটা: মোদির সবচে বড় স্লোগান ছিল ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’। পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়িয়ে ভারতকে বৈশ্বিক উৎপাদকে পরিণত করা। এছাড়া এ খাত থেকে জিডিপির ২৫ শতাংশ নিশ্চিত করা। কিন্তু গত বছরে এটি আটকে আছে ১৫ শতাংশে। আর সবচেয়ে খারাপ খবর হলোÑএ খাতে কাজের সংস্থান গত পাঁচ বছরে কমে অর্ধেক হয়েছে। একইসঙ্গে এক দশক ধরে রপ্তানি আটকে আছে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে।

অবকাঠামো নির্মাণ: অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান ফিডব্যাক ইনফ্রার সহপ্রতিষ্ঠাতা বিনায়ক চ্যাটার্জি বলছেন, মোদির সরকার প্রতিদিন গড়ে ৩৬ কিলোমিটার সড়ক তৈরির কাজ করেছে, যা আগের সরকারের সময়ে ছিল আট থেকে ১১ কিলোমিটার। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ দ্বিগুণ হয়েছে গত পাঁচ বছরে। এখন ১০০ গিগাওয়াট উৎপাদন হলেও ২০২৩ সাল নাগাদ ১৭৫ গিগাওয়াটের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থনীতির মূল ধারায় মানুষ: অর্থনীতির মূল ধারায় অনেক মানুষকে যুক্ত করতে পারাকে মোদি সরকারের বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে ভারত এখন বৈশ্বিক নেতাদের একটি। মোদি বিপুল পরিমাণ দরিদ্র মানুষকে ব্যাংকিং ধারায় যুক্ত করেছে।

স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়: অর্থনীতিবিদ রিতিকা খেরা বলছেন, আগের সরকারের মতো এ সরকারও স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলা অব্যাহত রেখেছে। বিশ্বের যেসব দেশ স্বাস্থ্যসেবায় খুব কম ব্যয় করে, ভারত তার একটি।

কৃষি খাতে ব্যর্থতা: ভারতের কর্মে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর অর্ধেকই দেশটির কৃষি খাতে সম্পৃক্ত। কিন্তু এটি জিডিপিতে অবদান রাখে খুব কমই। এজন্যই অনেকে মনে করেন, ভারতের কৃষি খাতের সংস্কার দরকার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..