দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

নর্দার্ণ জুটের শেয়ার নিয়ে কপালে ভাঁজ বিনিয়োগকারীর

১৪০০ টাকার শেয়ার নেমেছে ৪০০ টাকার নিচে

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাট খাতের কোম্পানি নর্দার্ণ জুটের শেয়ার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। গত বছর বাজারে গুঞ্জন ছিল, প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডারদের বড় আকারের বোনাস শেয়ার প্রদান করবে। যে কারণে শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘোষণা আসে ১০০ শতাংশ বোনাস শেয়ারের।

এতে কমতে শুরু করে কোম্পানিটির শেয়ারদর। সর্বশেষ চলতি সপ্তাহে এ কোম্পানির সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত আসে। এ খবরে গতকাল প্রায় ৯ শতাংশ কমে শেয়ারদর চলে যায় ৪০০ টাকার নিচে। দিন শেষে শেয়ারদর স্থির হয় ৩৮৪ টাকা ৯০ পয়সায়।

এদিকে দর কমে যাওয়ায় এ কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। কারণ, যাদের হাতে শেয়ার রয়েছে, তাদের বেশিরভাগেরই ক্রয়দর ৮০০ থেকে এক হাজার টাকার ওপরে। তাই এরই মধ্যে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা।

অন্যদিকে গত রোববার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নর্দার্ণ জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এ কোম্পানির বিভিন্ন ব্যাংকের সব অ্যাকাউন্ট স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে কোম্পানিটি তাদের রফতানি থেকে কোনো আয় করতে পারবে না। যে কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে কোম্পানিটি ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ডিএসই কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে।

২০১৮ সালে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেবে না বলে ঘোষণা করে, যার জেরে কোম্পানির শেয়ারদর কমতে শুরু করে। হঠাৎ এক হাজার টাকা থেকে দর ২৫৩ টাকায় চলে আসে। এরপরই গুঞ্জন শুরু হয়। পরের বছর কোম্পানিটি বড় আকারের বোনাস লভ্যাংশ দেবে। যে কারণে কোনো কারণ ছাড়াই শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে। মার্কেটে গুজব শোনা যায়, শেয়ারদর এক হাজার ৫০০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। সত্যি সত্যিই এক সময় শেয়ারদর এক হাজার ৪০০ টাকা অতিক্রম করে।

জানতে চাইলে এ কোম্পানির শেয়ারধারী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে গুজব ছিল শেয়ারদর দুই হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাবে। যে কারণে অন্য শেয়ার বিক্রি করে এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনি। কিন্তু এখন দেখছি উল্টো চিত্র। এরই মধ্যে পুঁজি অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

কোম্পানিটি ২০১৯ সালের জন্য ১০০ শতাংশ লভ্যাংশ নগদ ঘোষণা করে। ফলে দর আবারও কমতে শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, এ কোম্পানির শেয়ারসংখ্যা কম। যে কারণে এর চাহিদাও বেশি। বোনাস লভ্যাংশ পেলে শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ারসংখ্যা বৃদ্ধি পেত। এতে তাদের লাভের সম্ভাবনা তৈরি হতো। সে কারণে দর বাড়তে থাকে। কিন্তু নগদ লভ্যাংশ দেওয়ায় এ শেয়ারের চাহিদায় ভাটা পড়ে; ফলে দর কমে যায়।

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, কখনও কোনো গুজবে কান দিয়ে শেয়ার কেনাবেচা করা ঠিক নয়। অন্যদিকে কোম্পানি যতই ভালো হোক না কেন, অতিমূল্যায়িত শেয়ারে বিনিয়োগ বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীর কাজ নয়। যারা এ ধরনের বিনিয়োগ করেন, তারা বেশিরভাগ সময়ই বিপদে পড়েন।

পাট খাতের এ কোম্পানিটি ১৯৯৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এর মোট শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৭৮ দশমিক ১৩ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া বাকি ২১ দশমিক ৮৭ শতাংশ রয়েছে পরিচালকদের কাছে। সর্বশেষ আর্থিক বছরে কোম্পানিটি ৯৯ লাখ টাকা মুনাফা করে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..