প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নাঈম-চিরাগের ব্যাটে সেঞ্চুরি: অনায়াসে জিতল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ


ক্রীড়া প্রতিবেদক: আত্মবিশ্বাসটা আকাশ ছুঁয়েছিল। আগের ম্যাচেই যে তারা হারিয়েছিল শক্তিশালী আবাহনী লিমিটেডকে।

সেই তৃপ্তি যখন সঙ্গী করেই সোমবার (২৮ মার্চ) ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় ম্যাচে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবের মুখোমুখি হয় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। এমন ম্যাচে লড়াইটা একপেশেই থাকল। অনায়াসে ম্যাচ জিতে ছন্দ ধরে রাখল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।

অবশ্য লক্ষ্যটা সহজ ছিল না। জিততে চাই ২৯৫ রান। এ অবস্থায় কিছুটা তো ভয় ছিলই লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের। কিন্তু যে দলে নাঈম ইসলামের মতো ফর্মে থাকা একজন ব্যাটসম্যান থাকেন তাদের কাছে এ সংগ্রহটা মামুলিই বটে! এদিনও প্রত্যাশার সঙ্গে দেখা হয়ে গেল প্রাপ্তির। আরও একবার সাফল্যের আকাশে ফের উড়ল লিজেন্ডসরা। বৃষ্টি আইনে ২৯ রানে লিগের সাবেক চ্যাম্পিয়নরা হারিয়েছে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবকে।

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে সোমবার রাজধানীর ইউল্যাব ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস ভাগ্যও ছিল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের পক্ষেই। উইকেটের কথা মাথায় নিয়ে শুরুতে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় তারা। টাইগার্সরা ৫০ ওভারে অলআউট হয়ে করে ২৯৪ রান। জবাব দিতে নেমে লিজেন্ডসরা ৪৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে করে ২৫৭ রান। এরপরই নেমে আসে হঠাৎ বৃষ্টি। এরপর আর খেলা শুরু করা যায়নি। দিনের আলো ফুরিয়ে যেতেই  ডাকওয়াথ লুইস ম্যাথডে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় রূপগঞ্জের। তখন কাংখিত লক্ষ্যের চেয়ে ২৯ রান এগিয়েছিল লিজেন্ডসরা। 

সোমবারও নাঈমের ব্যাট কথা বলল। তিনি অপরাজিত ১১৪ রানে। আগের ম্যাচে আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে শতরান করেন তিনি। দল পায় দারুণ জয়। এবার নাঈমের সঙ্গে সেঞ্চুরি পেলেন দলের ভারতীয় রিক্রুট চিরাগ জানি। তাদের ব্যাটেই চলতি লিগে ধরা দিল টানা দ্বিতীয় জয়। দুই হারের পর দুই জয়!

ইউল্যাব ক্রিকেট মাঠে বেশ দাপটই দেখান রূপগঞ্জ টাইগার্সের ব্যাটসম্যানরা। উদ্বোধনী জুটিতে ৫১ রান যোগ হতেই রানআউটে ফেরেন মিজানুর রহমান। তিনি করেন ৩৩ রান। এরপর জাকির হাসান ও অপরাজিত বাবার ব্যাটে দাপট দেখায় টাইগার্সরা। তবে তাদের কাউকেই শতরান করতে দেয়নি রূপগঞ্জ বোলাররা। 

জাকির ৯১ রান করে নাবিল সামাদের শিকার। ৮২ বলে নার্ভাস নাইটিজে ফেরেন তিনি। লিগের আগের তিন ম্যাচে তার রান ছিল ১১৭, ৬৩ ও ১২৪। অপরাজিত ৭২ রানে ধরেন সাজঘরের পথ। এরপরের সময়টা দাপট ছিল মাশরাফিদেরই। তারপরও টাইগার্সরা তুলে প্রায় তিনশ ছোঁয়া স্কোর। মাশরাফি, শফিউল ইসলাম, নাবিল ও চিরাগ নেন দুটি করে উইকেট।

তারপর জবাব দিতে নেমে শুরুটা একেবারেই ভাল ছিল না রূপগঞ্জের। শঙ্কা জাগছিল- বুঝি লিগের নবীন দলের বিপক্ষে বিপাকেই পড়বে তারা। দলীয় ৫ রানে শেষ ২ উইকেট। বিদায় নেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও আব্বাস মুসা। তবে এরপরই দৃশ্যপট পাল্টে দেন নাঈম ও চিরাগ। দু’জন প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণ উড়িয়ে দিয়ে খেলতে থাকেন দাপটে। ফর্মে থাকলে খেলা কতোটা সহজ বুঝিয়ে দেন দু’জন।

এরমধ্যে চিরাগ ১০৯ বলে ১২২ রানে ধরেন সাজঘরের পথ। তার ইনিংসে ছিল ৮ চার ও ৬ ছক্কা। ম্যাচের সেরা তিনিই। অন্যপ্রান্তে নাঈম ১৩০ বলে ১১৪ রানে ছিলেন অপরাজিত। এটি লিস্ট এ ক্যারিয়ারে তার ১২ নম্বর সেঞ্চুরি। দুটি শতরান ছাড়াও এবারের লিগে খেলেছেন ৯১, ৯৫ ও ৯২ রানের ইনিংস।

নাঈম প্রতি ম্যাচেই ছাড়িয়ে যাচ্ছেন নিজেকে। অবশ্য সামনে আরও চমক বাকি। লিগেরও অনেকটা পথ এখনো সামনে। শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনে এমন দাপটেই এগিয়ে যেতে চায় রূপগঞ্জ!

সংক্ষিপ্ত স্কোর-

রূপগঞ্জ টাইগার্স : ৫০ ওভারে ২৯৪/১০ (জাকির ৯১, মিজানুর ৩৩, অপরাজিত ৭২, আরিফুল ২৬, ফরহাদ ২৫; মাশরাফি ২/৫৫, নাবিল ২/৩৯, শফিউল ২/৪৩, চিরাগ ২/৪৯)

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ : ৪৩ ওভারে ২৫৭/৩ (চিরাগ ১২২, নাঈম ১১৪; নাসুম ১/৩৮)
ফল: লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ বৃষ্টি আইনে ২৯ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা : চিরাগ জানি।