সারা বাংলা

নাটোরে বাড়ছে মাছ উৎপাদন

তাপস কুমার, নাটোর: নাটোর জেলায় মাছের উৎপাদন ক্রমশ বাড়ছে। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে উৎপাদন হয় ৪২ হাজার ৫৪৭ টন। যা জেলার চাহিদার চাইতে পাঁচ হাজার ৩১৭ টন বেশি।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১১-২০১২ অর্থবছরে জেলায় মাছের উৎপাদন হয় ৩৩ হাজার ৮৮৬ টন। এর পরবর্তী চার অর্থবছরে উৎপাদন হয় যথাক্রমে ৩৭ হাজার ৬৫৬ টন, ৩৮ হাজার ২৭৫ টন, ৩৯ হাজার ১০৪ টন এবং ৪০ হাজার ৫২১ টন। গত ২০১৬-২০১৭ বছরে উৎপাদন আরও বেড়ে হয় ৪২ হাজার ৫৪৭ টন।

এদিকে জেলায় বাৎসরিক মাছের চাহিদা ৩৭ হাজার ২৩০ টন। এর বিপরীতে ৪২ হাজার ৫৪৭ টন উৎপাদনের ফলে উদ্বৃত্ত থাকছে পাঁচ হাজার ৩১৭ টন। উদ্বৃত্ত এ মাছ যাচ্ছে দেশের ঘাটতি এলাকার চাহিদা পূরণের জন্যে।

জেলার চার হাজার ১৫০ হেক্টর নদী এবং দুই হাজার ৯২৬ হেক্টর বিল এলাকা দেশীয় রকমারি প্রজাতির মাছের মূল উৎস। এর বাইরে এক হাজার ১২৫ হেক্টর পুকুর এবং ১৭৪ হেক্টর খাল এলাকায় মাছ চাষ করা হচ্ছে। এর বাইরে রয়েছে ৪৮ হাজার হেক্টরের মৌসুমি পাবন ভূমি।

মৎস্য চাষি গোলাম নবী জানান, গুণগত মানের পোনা ও খাবারের সহজলভ্যতা, মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও সরবরাহকৃত প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাভবান হচ্ছেন চাষি, বাড়ছে উৎপাদন।

গুরুদাসপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল হালিম জানান, মৎস্য চাষিরা এখন অনেক সচেতন। তারা পুকুরে দূষণ প্রতিরোধ ও অক্সিজেনের প্রবাহ বৃদ্ধির জন্যে এরাটর এবং মাছের সুষম খাবার নিশ্চিত করতে অটোমেটিক ফিডার পদ্ধতিও ব্যবহার করছেন।

নলডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইব্রহিম হামিদ শাহিন জানান, গুরুত্বপূর্ণ ২০টি স্থানে অভয়াশ্রম তৈরি ও সংরক্ষণের ফলে মা মাছের সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে। চলতি ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ৭৩৬ মৎস্য চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর দেশীয় প্রজাতিসহ বিভিন্ন মাছ চাষের উপরে মোট ৪৭টি প্রদর্শনী চলছে। উš§ুক্ত জলাশয়ে সাড়ে ছয় টন পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। বিল নার্সারি কার্যক্রমের আওতায় ১৭ কেজি কার্প জাতীয় মাছের রেণু থেকে পোনা তৈরি করে বিলে অবমুক্ত করা হয়েছে। চলছে নদীতে খাঁচায় মাছ চাষের নতুন পদ্ধতির প্রসার। এছাড়াও সিংড়া ও গুরুদাসপুর উপজেলায় সোঁতী জালের অবকাঠামো অপসারণ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও মাছের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা হচ্ছে। নলডাঙ্গা উপজেলার মৎস্য ভাণ্ডার খ্যাত হালতি বিলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদনে এর সুফল পাওয়া যাবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলক কুমার সাহা জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী সম্প্র্রসারণ কর্মী হিসেবে মাঠপর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গৃহীত পদক্ষেপের সুফল হিসেবে ভবিষ্যতে জেলায় মাছ উৎপাদন আরও বাড়বে।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..