প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নাফটা অকার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়িপ্রতি খরচ বাড়বে ১১০০ ডলার

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার আঞ্চলিক জোট নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (নাফটা)। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাফটা চুক্তি বাতিলের আভাস দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার মোটর ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমইএমএ) এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন আরোপিত ট্যারিফ আইনে কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আমদানিকৃত নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ গড়ে ১১০০ ডলার বেড়ে যাবে এবং প্রায় ৫০ হাজার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের চাকরি কমে যাবে। খবর এএফপি।

নতুন গবেষণার পর এক বিবৃতিতে এমইএমএ জানায়, আমেরিকা যদিও আমদানির ক্ষেত্রে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বা নতুন করনীতি চাপিয়ে দেয়, তবে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে। এমইএমএ’র প্রেসিডেন্ট স্টিব হ্যান্ডস্যুহ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চাকরি ফেরত নেওয়া যাবে না।

স্টিব হ্যান্ডস্যুহ আরও বলেন, করনীতি এবং বাণিজ্যনীতি যা কোম্পাানিকে পুনরায় কাজ করতে বাধ্য করবে। ওই গবেষণার নেতৃত্বদানকারী এবং বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের ঊর্ধ্বতন অংশীদার জ্যাভিয়ার মাসকেট বলেন, মোটর গাড়ির আমদানি-রফতানি কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ট্যারিফ, বর্ডার ট্যাক্স, এবং নাফটা থেকে পশ্চাৎপদ হওয়া উত্তর আমেরিকা তথা বিশ্বব্যাপী মোটর পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ওপর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।

ওই গবেষণায় দেখা যায়, আমদানির ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ ট্যারিফ বৃদ্ধি করলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মোটর গাড়ির ওপর ১৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ২৭ বিলিয়ন অতিরিক্ত খরচ বাড়বে। ফলে অমদানিকারকরা দেখতে পাবেন গড়ে প্রতি গাড়িতে ১১০০ ডলার খরচ বাড়বে। গবেষণায় দেখা যায় ম্যানুফ্যাকচারার্স এবং সরবরাহকারীরা কেইই সীমান্ত কর এবং ট্যারিফ নিয়ে কথা বলেননি।

যুক্তরাষ্ট্র মোটর কার আমদানির অন্যতম অংশীদার কানাডা ও মেক্সিকো।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র নাফটা ত্যাগ করার ঘোষণা দেয়। নিজ দেশের পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর করহার বাড়িয়ে দেয়। উত্তর আমেরিকার আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট নাফটারভুক্ত দেশ কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর করহার বাড়িয়ে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও এক গবেষণায় দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা নিজ দেশের তৈরি জিনিসে চাইতে অন্য দেশের তৈরি জিনিস ব্যবহারে বেশি আগ্রহী।