প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নামমাত্র ভাড়ায় সরকারি সংস্থাকে: বাস ইজারা দিচ্ছে বিআরটিসি

 

ইসমাইল আলী: সরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিবহনে বেশকিছু বাস ইজারা দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মচারী পরিবহনেও বাস ইজারা দিয়েছে সংস্থাটি। এসব বাস ইজারায় ভাড়া নেওয়া হচ্ছে অনেক কম। এজন্য ভাড়া বাড়ানোর অনুরোধ করেছে বিআরটিসির বিভিন্ন ডিপো ম্যানেজার। কল্যাণপুর ডিপো থেকে সংস্থাটির চেয়ারম্যানকে পাঠানো চিঠিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের কাছে ২৬টি বাস ইজারা দিয়ে রেখেছে বিআরটিসি। এগুলো ছয়টি রুটে চলাচল করে। এর মধ্যে মিরপুর-সচিবালয় রুটে চলাচলকারী বাসের কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ৭৪ টাকা ৬৬ পয়সা, আনসার ক্যাম্প-সচিবালয় রুটে ৯৪ টাকা ২৪ পয়সা, কমলাপুর-পরিকল্পনা অফিস ৩০ টাকা ৮৪ পয়সা, মোহাম্মদপুর-সচিবালয় রুটে ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা, কল্যাণপুর-সচিবালয় রুটে ৪৫ টাকা ৫৩ পয়সা ও তালতলা-সচিবালয় রুটে ৯০ টাকা ৮৮ পয়সা। এতে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া গড়ে ১ টাকারও কম পাওয়া যায়।

একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ২২টি, সুপ্রিমকোর্টকে ১০টি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে ৬টি, অগ্রণী ব্যাংককে ৪টি, ঢাকা ওয়াসাকে ৪টি ও অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে ৫টি বাস ইজারা দেওয়া আছে। এগুলো থেকেও কিলোমিটারপ্রতি ভাড়ার হার অনেক কম।

জানতে চাইলে বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, বিআরটিসি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। তাই সেবাকেই সবসময় প্রাধান্য দেওয়া হয়। ভাড়াকে এক্ষেত্রে তুলনামূলক কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত পুরোনো ও কম শক্তিশালী বাস ইজারা দেওয়া হয়। এগুলো সারাদিন ট্রিপ দিতেও সক্ষম নয়। তাই বাসগুলো ইজারা দিয়ে রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে পরিচালনব্যয় উঠলেই চলে যায়।

তথ্যমতে, সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে আনা-নেওয়ার জন্য ১৯৯৭ সালের ২২ অক্টোবর বিআরটিসির কল্যাণপুর ডিপোর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড চুক্তি করে। সে সময় প্রতি যাত্রীর জন্য কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ছিল ২১ পয়সা। এর ওপর কোনো ভ্যাট বা আয়কর ছিল না। তবে ২০০৭ সালে ভাড়ার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৪ শতাংশ আয়কর আরোপ করা হয়। এদিকে ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও এসব বাসভাড়া খুব বেশি বাড়ানো হয়নি। এতে বাস ইজারা থেকে বিআরটিসির আয় তুলনামূলক অনেক কমে গেছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে বিদ্যমান বিল থেকে ভ্যাট ও আয়কর কেটে কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড বিআরটিসিকে বিল পরিশোধ করছে। আবার সরকার নতুন পে-স্কেল কার্যকরের পর ব্যয় বেড়ে গেছে। এতে গাড়ি পরিচালনব্যয় উঠে আসছে না। ফলে কয়েক মাসের বেতন বকেয়া পড়ে গেছে। এ অবস্থায় ভাড়ার সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত করে ভাড়া নির্ধারণে সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডকে চিঠি দেওয়া প্রয়োজন।

ভাড়া বাড়ানোয় এখনও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানান বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, কল্যাণপুর ডিপো থেকে বাস ইজারার ভাড়া বাড়ানোর একটি চিঠি এসেছে। এটি পুরোটাই প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। তবে এখনও এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে নতুন বাস কেনা শুরু করে বিআরটিসি। এরপর থেকে বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে বাস ইজারা দেওয়া বাড়ছে। তবে নামমাত্র ভাড়ায় ইজারা দেওয়ায় এ খাতে বিআরটিসির আয় খুব বেশি বাড়েনি। বরং গত কয়েক বছর ধরে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংস্থাটির লোকসান।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিআরটিসির লোকসান ছিল ৬৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অথচ নতুন বাস কেনার আগে ২০০৯-১০ অর্থবছরে সংস্থাটির লোকসান ছিল ২৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এছাড়া ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৬৯ কোটি ৪৬ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৫৪ কোটি ২৮ লাখ, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৭৪ কোটি ৬৬ লাখ ও ২০১০-১১ অর্থবছরে ৬২ কোটি ৬ লাখ টাকা লোকসান করে বিআরটিসি।