বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

নারীর উদ্ভাবনী মেধাশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে

সেমিনারে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুরুষের পাশাপাশি নারীও সমাজ ও জাতির উন্নয়নের পথযাত্রী। উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ এবং উদ্ভাবনী মেধাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নারীকে সমাজের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। এ দিবস (নারী উদ্যোক্তা দিবস) কর্মক্ষেত্রে তথা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণে নারী-পুরুষের দূরত্ব কমিয়ে আনার পাশাপাশি সমাজে সমতা ফিরিয়ে আনতে এবং নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। নারী উদ্যোক্তা দিবস উপলক্ষে এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

নারী উদ্যোক্তা দিবস উপলক্ষে গতকাল

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁও আইসিটি টাওয়ারে ‘উদ্যোক্তা সংস্কৃতি ও উদ্ভাবনী পরিবেশ তৈরিতে নারীর ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অধীনে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ (আইডিইএ) প্রকল্প এ সেমিনার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব, বিজিএমইএ’র সভাপতি ড. রুবানা হক ও ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ মজিবুল হক।

সেমিনারে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীকে প্রাধান্য দিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। দেশে বিচারপতি থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে নারীর উপস্থিতি রয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘বৈশ্বিক লিঙ্গবৈষম্য, ২০১৮’ প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, নারী-পুরুষের সমতার দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের এনরোলমেন্টের সংখ্যা বেশি। প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মায়ের কাছে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেমের মাধ্যমে শিক্ষাবৃত্তির টাকা ‘মায়ের হাসি’ প্রকল্পের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের পুরো অর্থনৈতিক কাঠামোর মূলভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে নারী উদ্যোক্তা ও নারীসমাজের ওপর। অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বলছে, সবচেয়ে বেশি অবদান আমাদের নারীসমাজের।

প্রতিমন্ত্রী দেশে স্টার্টআপ কালচার তৈরির জন্য নারী-পুরুষ সবাইকে সমানভাবে কাজ করার আহ্বান জানান ও একই সঙ্গে তরুণ নারী উদ্যোক্তাদের তিনি স্টার্টআপ বাংলাদেশ ‘আইডিইএ’ প্রকল্পে তাদের উদ্ভাবনী আইডিয়া দাখিলের জন্য অনুপ্রাণিত করেন।

উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার বলেন, সত্যিকারের অর্থে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য। তিনি সব সেক্টরকে নারীবান্ধব করার চেষ্টায় আছেন। সমাজের বিশেষ অংশ হলো নারী। তাই নারীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি সব নারীকে আহ্বান জানান।

বিজিএমইএ’র সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, সব নারীরই একই কথা। নারীদের সব কষ্টের জায়গা এক। নারী কোনো অজুহাত দিতে পারে না। তাই নিজের স্থান নিজেকেই করতে হবে। নারী কখনও হেরে যায় না। তিনি তাদের কোনো অবস্থায় হাল না ছাড়তে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, একজন নারীকেই আরেক নারীর পাশে দাঁড়াতে হবে। এছাড়া তিনি তাদের অ্যাকসেস টু ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে সহজীকরণের লক্ষ্যে ন্যাশনাল ক্রেডিট পোর্টালের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন এবং দ্রুত চালু করার জন্যও জোর প্রস্তাব করেন।

হোসনে আরা বেগম বলেন, আমরা নারীরা সবার সঙ্গে মিলে কাজ করি ও করতে চাই। মেয়েরা এখন ঘরে বসেও কাজ করছে, সংসারে সচ্ছলতা এনে দিচ্ছে। নারীকে মাথায় রাখতে হবে যে, তারা সমাজের একটা বড় অংশ। সে লক্ষ্যে নারীকে সাহসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে তিনি উৎসাহিত করেন।

শমী কায়সার বলেন, নারীর নিজেদের জায়গাটা শুরু হয় নিজেদের বাড়ি থেকে। মেয়েরাই মেয়েদের শক্তি। মেয়েরা যখন আরও কয়েকজনকে নিয়ে একসঙ্গে হয়, তখনই তৈরি হতে পারে একটি পাওয়ারফুল কমিউনিটি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..