বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

নারীর উৎপাদিত পণ্যের বাজার নারীবান্ধব করতে হবে

অ্যাকশনএইডের ওয়েবিনারে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারী উদ্যোক্তাকে উৎসাহিত করা ও উৎপাদিত পণ্যের বাজার নারীবান্ধব করতে হবে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তারা নানা বাধা উপেক্ষা করে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। করোনা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তা খুবই জরুরি এবং এর জন্য নারী কৃষি উদ্যোক্তাকে সহায়তা ও উৎসাহিত করতে হবে। গতকাল ‘গ্রামীণ নারী কৃষি উদ্যোক্তা ও কভিড-১৯: একটি পথনির্দেশনা’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

করোনাকালে নারী উদ্যোক্তাদের বাজার সম্প্রসারণে সাফল্য এবং এর কার্যকারিতা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছে তুলে ধরতে এবং একটি জুতসই পথনির্দেশনার লক্ষ্যে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এমডিএফ) যৌথ উদ্যোগে ওয়েবিনারের আয়োজন করে। 

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জয়িতা ফাউন্ডেশনের পরিচালক মাকসুদা খাতুন ও বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার এ কে ওসমান হারুনী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, নারীদের যতক্ষণ পর্যন্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা অনলাইন মার্কেট প্লেসে সফলতা পাবে না। এজন্য নিজস্ব অনলাইন মার্কেট প্লেস তৈরির কাজ করছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, যেখানে নারীদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দেশের ৬৪ জেলায় ভবিষ্যতে কৃষকের বাজার স্থাপনের কাজ চলছে, যেখানে সরাসরি কৃষক তার উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারবে।

তিনি বলেন, বিপণন ডাকসেবা চালু করার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ফার্মার্স মার্কেটিং গ্রুপ স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রাইসিং পলিসি বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

জয়িতা ফাউন্ডেশনের পরিচালক মাকসুদা খাতুন বলেন, নারীদের সমাজে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা লক্ষ্যে জয়িতা ফাউন্ডেশন ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। আমরা নারীবান্ধব বিপণন নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ করছি এবং অদূর ভবিষ্যতে বিদেশে পণ্য বিপণনের চিন্তাও রয়েছে। তিনটি ক্যটেগরিতে জয়িতা বর্তমানে ১৫০ রকমের পণ্য বিপণন করছে। করোনাকালে কীভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা করতে পারে, সেই বিষয়ে নারীদের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। ৬৪ জেলায় জয়িতা কর্নার স্থাপনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার এ কে ওসমান হারুনী বলেন, নেদারল্যান্ডস দূতাবাস বাংলাদেশের সূচনালগ্ন থেকে সহযোগিতামূলক কাজ করে আসছে। বিশেষ করে নারীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার নেদারল্যান্ডস দূতাবাস তৎপর।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাকশনএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, আমরা গ্রামীণ নারীর জীবনের অবস্থান পরিবর্তনের জন্য নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। নারী উদ্যোক্তাকে উৎসাহিত করা ও উৎপাদিত পণ্যের বাজারকে নারীবান্ধব করতে হবে। 

ওয়েবিনারে প্যানেল আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ব্যবসা ও বিপণন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক ফারজানা খান, মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও হেকস/ইপারের কান্ট্রি ডিরেক্টর অনিক আসাদ প্রমুখ।

ওয়েবিনারে জানানো হয়, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ‘এমএমডব্লিউডব্লিউ’ প্রকল্পের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২২টি নারীবান্ধব বাজার স্থাপন করেছে এবং উৎপাদিত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য ৬৭টি কমিউনিটি বেজড কালেকশন পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..