সম্পাদকীয়

নারী উদ্যোক্তাদের সব প্রতিবন্ধকতা দূর করুন

বেকারত্ব দূরীকরণ, কর্মসংস্থান, অর্থনীতির উন্নতিসহ নানা দিক বিবেচনায় উদ্যোক্তা গড়ে তোলার কথা বলা হয় প্রায়ই। দেশে বিপুলসংখ্যক বেকার জনগোষ্ঠী থাকায় উদ্যোক্তা গড়ার ধারণাটা বেশ জোরালো হয়েছে। নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে অনেকে সফল উদ্যোক্তা হচ্ছেনও। এর মধ্যে একটি অংশ নারী। অনেক নারী উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসায় তাদের ক্ষমতায়নের ধারণায় অগ্রগতি হয়েছে অনেক। তবে নারী উদ্যোক্তাদের রফতানি বাণিজ্যে ভূমিকা এখনও আশাব্যঞ্জক নয়। এর কারণ খুঁজে বের করে তা দ্রুত সমাধান করা জরুরি। দেশের সমৃদ্ধির স্বার্থে নারীদের এগিয়ে নেওয়ার বিকল্প নেই।

ক্ষুদ্র ও মাঝারিশিল্পে নারী উদ্যোক্তাদের ভূমিকা নিয়ে এসএমই ফাউন্ডেশন ও বিআইডিএস’র গবেষণায় এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত উঠে এসেছে। তা নিয়ে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘রফতানিতে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ দুই শতাংশ’ শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশে মাত্র দুই শতাংশ নারী উদ্যোক্তার পণ্য রফতানি হয়। পণ্য বাজারজাতকরণে যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকা, ঋণপ্রাপ্তিতে অসুবিধা এবং সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিবন্ধকতায় অবিবাহিত নারীরা এখনও উদ্যোক্তা হতে পারছে না। ৮৬ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা বিবাহিত, তাদের ৬৫ শতাংশের পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে। উদ্যোক্তা হতে নারীদের এগিয়ে আসার পথে এত বাধা থাকা হতাশাজনক।

একসময় নারীদের ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা চাকরিতে প্রবেশে অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল। তবে বর্তমানে সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে অনেক। নানা ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে আসছেন। গত কয়েক বছরে পাবলিক পরীক্ষা, চাকরিসহ নানা ক্ষেত্রে পুরুষদের সঙ্গে সমানতালে লড়ছে। দেশের অগ্রগতির স্বার্থে এটি ভালো খবর নিঃসন্দেহে। তবে উদ্যোক্তা হওয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা এখনও প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন, যা তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে বাধাগ্রস্ত করছে।

গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যবসা করার ক্ষেত্রে ৭৭ শতাংশ নারী এখন পরিবার থেকে কোনো বাধা পায় না। তবে সাত শতাংশ নারী এখনও বাধা পায়। এছাড়া আরও কিছু বাধা রয়েছে। নারীদের এগিয়ে নিতে হলে এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। পাশাপাশি তরুণ নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। ট্রেড লাইসেন্স, মূলধন সংগ্রহসহ আনুষঙ্গিক নানা কাজেও তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা। এছাড়া প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও আমরা মনে করি। মনে রাখা দরকার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। এতে নারীদের ব্যাপকহারে যুক্ত করতে পারলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে।

সর্বশেষ..