সারা বাংলা

নারী উন্নয়নে বেইজিং কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি

যশোরে মহিলা পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

প্রতিনিধি, যশোর

নারী উন্নয়নে বেইজিং কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে যশোর মহিলা পরিষদ। গতকাল বৃহস্পতিবার যশোর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহিলা পরিষদের সভাপতি আফরোজা শিরীন, সাধারণ সম্পাদক তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারদিনা রহমান এ্যানি প্রমুখ।

‘বেইজিং+২৫ পর্যালোচনা: নাগরিক সমাজের সম্পৃক্তি’ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উম্মে মাকসুদা মাসু। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনের ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে ২৫ বছর পূর্ণ হবে আগামী বছর। বিশ্বের দেশে দেশে পর্যালোচনা করা হবে বেইজিং কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি কতটুকু, চ্যালেঞ্জ আছে কোথায় কোথায়, কোন কর্মপদ্ধতি ও কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করা যায়। বাংলাদেশে ও বাংলাদেশের নারী আন্দোলনও এ পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার অংশীদার। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পর্যালোচনা করে দেখতে চায়, গত ২৫ বছরে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার ১২টি উদ্বিগ্নতার ক্ষেত্রে কতটুকু পরিবর্তন এসেছে এবং এদেশের নারী ও কন্যাশিশুর জীবনে কতটুকু পরিবর্তন হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ১৯৯৫ সালে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলন। জাতিসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনে জাতিসংঘভুক্ত ১৮৭ দেশের ১৭ হাজার ৭০৯ প্রতিনিধি যোগদান করেন। নারী-পুরুষের সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সম্মেলনে গৃহীত হয় বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা। এ ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনায় নারীর দারিদ্র্য, নারী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, নারীর স্বাস্থ্য, নারীর প্রতি সহিংসতাসহ নারীর অগ্রগতির ক্ষেত্রে ১২টি উদ্বিগ্নতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়।

বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার আলোকে ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা করে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা। পরিবর্তিত পরিবর্তন, বিয়োজন, সংযোজনের মাধ্যমে ২০১১ সালে পুনরায় জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা ঘোষণা করা হয়। নারী উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৩ সালে প্রণীত হয় কর্মপরিকল্পনা। কিন্তু গৃহীত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অগ্রগতি পরিমাপ করার জন্য কোনো উদ্যোগ আমরা দেখি না।

এ পর্যালোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে এবং এই দিকনির্দেশনা বেইজিং কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন আন্দোলনকে শক্তিশালী করবে। ইউএন ওমেন বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এ পর্যালোচনার কাজটি পরিচালনা করছে। যা শুরু হয়েছে এ বছরের আগস্টে। শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর।

পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আটটি বিভাগীয় শহর ও দুটি জেলা শহরে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। সংলাপ অনুষ্ঠানের পর বিভাগ/জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে সমাবেশ। সমাবেশ শেষে সারা দেশ থেকে পাওয়া সুপারিশ নিয়ে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় পর্যায়ের সংলাপ।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারী, তরুণ প্রজš§সহ নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে বেইজিং+২৫ পর্যালোচনার মাধ্যমে পাওয়া তথ্য, সুপারিশ বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনসচেতনতা তৈরি করবে। নীতিনির্ধারণী পর্যায় ও গণমাধ্যমে প্রভাব সৃষ্টি করবে এবং সার্বিক অর্থে বেইজিং কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নারী আন্দোলনকে শক্তিশালী করবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..