বাণিজ্য সংবাদ

নারী চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবে সরকার

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: জাতিসংঘের চারটি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সরকার সিলেট বিভাগের তিন জেলায় নারী চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও শ্রমিকদের পরিবারের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করবে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কেএম আলী আজমের সভাপতিত্বে গতকাল শনিবার কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে এ-বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদ।
চা শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, চা শ্রমিকদের শুধু চা পাতা সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে চা পাতাকে আরও সুন্দরভাবে প্রক্রিয়াজাত করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলতে পারলে এটা চা শ্রমিক ও চা-শিল্প উভয়ের জন্যই মঙ্গলজনক। শিল্পে নতুন নতুন ভ্যালু যোগ করতে পারলে শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি, জীবনমানের উন্নয়ন এবং চা-শিল্পের উন্নয়ন সাধিত হবে।
তিনি আরও বলেন, টেকসই উন্নয়নের মূল সূত্র হলো সবাইকে নিয়েই উন্নয়ন। কাউকে পেছনে ফেলে রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে না। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প চা খাতের নারী শ্রমিকর সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের চারটি সংস্থা কাজ করতে আগ্রহী হয়েছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কেএম আলী আজম বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে সারা দেশে কাজ করে যাচ্ছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় তার আওতাধীন কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের জেলা কার্যালয়ের সহযোগিতায় চা শ্রমিকদের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায় বলেন, চা বাগানের শ্রমিকদের বিশেষত মহিলা শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ চা শ্রমিকরা অসুস্থতা, চাকরি বা আয়ের নিরাপত্তাহীনতা ও বার্ধক্যজনিত শারীরিক দুর্বলতাসহ নানা সমস্যায় পতিত হয়।
চা শ্রমিকদের মাঝে মাদক, পারিবারিক সহিংসতা, জোরপূর্বক বিয়ে, বাল্যবিয়ে, কৈশোরে গর্ভধারণ, যৌন হয়রানি ও বহুবিবাহের মতো অনেক সমস্যা বিরাজমান। এক্ষেত্রে নারী শ্রমিকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ প্রকল্প গৃহীত হলে চা-শিল্পের এসব সমস্যা নিরসন সহজ হবে।

উল্লেখ্য, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট জেলায় অবস্থিত চা শিল্প শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রস্তাবিত প্রকল্পে সরকারি সংস্থা হিসেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর, শ্রম অধিদফতর, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ চা বোর্ড কাজ করবে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ), জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ, জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড নেশন উইমেন (ইউএন উইমেন) প্রকল্প বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করবে।

সর্বশেষ..