সম্পাদকীয়

নিউমোনিয়া চিকিৎসায় সক্ষমতা বাড়ানো হোক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে গত সাত দিনে ভর্তি হওয়া ৪০০ নিউমোনিয়া রোগীর মধ্যে ১২৫ জনই শিশু। অথচ শিশু ওয়ার্ডে বেড রয়েছে মাত্র ১৮টি। ফলে মেঝে ও বারান্দাতেই তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একজন রোগীর চিকিৎসা সম্পন্ন করে হাসপাতাল ছাড়তে গড়ে চার দিন লাগলেও প্রতিদিনই নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালের সক্ষমতা না বাড়ালে জেলার স্বাস্থ্যঝুঁকি ভয়ংকর রূপ নিতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখনই গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে প্রকাশিত হয়েছে। সারা দেশে শিশুমৃত্যুর হার কমে এলেও নিউমোনিয়ায় মৃত্যু আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। গড়ে প্রতিদিন দুই শিশু নিউমোনিয়ায় মারা যাচ্ছে। এমনকি পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুর মৃত্যুর ক্ষেত্রে এই রোগটিই এখন প্রধান কারণ। দেশে এখন বছরে এক লাখের বেশি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০ হাজার শিশু। দেশ এখন স্বল্পোন্নত পরিচয় লাভ করার পরেও দেখা যাচ্ছে নিউমোনিয়ায় শিশু আক্রান্তের ঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা পৃথিবীর অন্যান্য নিম্ন আয়ের দেশের সমতুল্য। ২০ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে দেশে জন্ম নেওয়া শিশুর স্বাস্থ্যকর, সুখী, শিক্ষিত ও সুরক্ষিত অবস্থায় বেড়ে ওঠার পরিবেশ সৃষ্টি হলেও নিউমোনিয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ কফ-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও পাতলা পায়খানাই হলো এর লক্ষণ। ভ্যাপসা গরম ও হঠাৎ বৃষ্টিতে এই রোগের আক্রমণ জেলাটিতে বেশি দেখা যাচ্ছে। সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকে রোগমুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও এ হাসপাতালে তৃতীয় বা নতুন প্রজন্মের ব্যয়বহুল মেরুপেনা অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হচ্ছে। তদুপরি আক্রান্তরা বারান্দা বা মেঝেতে ঠাঁই নিতে বাধ্য হওয়ায় রোগীর পরিস্থিতি আরও শোচনীয় রূপ লাভ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেমন কোনো উদ্যোগ নিতেও দেখা যায়নি। তবে জেলাটিতে সার্বিক নিউমোনিয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় একমাত্র সদর হাসপাতালের ওপর চাপ না বাড়িয়ে অন্যান্য হাসপাতালের পাশাপাশি প্রতিটি কমিউনিটি হাসপাতালেও বিপৎকালীন মুহূর্তে একজন করে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা যেতে পারে। পক্ষান্তরে প্রতিকারের পাশাপাশি প্রতিরোধের ব্যবস্থায় নেওয়া জরুরি। সেক্ষেত্রে অপুষ্টি, হাম, ভিটামিন এ-এর অভাব, পরিবেশদূষণ, অপর্যাপ্ত মায়ের দুধ পানসহ বিভিন্ন কারণকে গুরুত্ব দিয়ে জেলাটিতে কিছু সচেতনতা ও সম্পূরক সরবরাহের উদ্যোগ নিতে হবে। উপজেলা হাসপাতালসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকের অব্যবস্থাপনার কারণেই রোগটির প্রাদুর্ভাব বেড়ে যেতে পারে; এমনকি জেলা সদর হাসপাতালে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্ট জনেরা এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ সারা দেশের নাজুক পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্যোগী হবেন বলে আশা করা যায়।

সর্বশেষ..