স্পোর্টস

নিজেদের পাতা ফাঁদে বিপাকে বাংলাদেশে

ক্রীড়া প্রতিবেদক: আফগানিস্তানকে কাবু করতে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে স্পিন ফাঁদ পেতেছে বাংলাদেশ। তাই একাদশে কোনো পেসার রাখেনি টাইগাররা। কিন্তু তারপরও সফরকারীদের প্রথম ইনিংসে খুব একটা বিপদে ফেলতে পারেনি স্বাগতিকরা। উল্টো পরে ব্যাট করতে নেমে নিজেদের ফাঁদে নিজেরাই পড়েছে সাকিব আল হাসানের দল। একমাত্র টেস্ট হারেরও শঙ্কা ভর করেছে রাসেল ডমিঙ্গোর শিষ্যদের ওপর।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গতকাল আফগানদের ৩৪২ রানের জবাবে বাংলাদেশ করেছে ৮ উইকেটে ১৯৪ রান। তাই সফরকারীদের চেয়ে সাকিব আল হাসানরা এখনও পেছনে রয়েছে ১৪৮ রান। যদিও টাইগারদের ভরসার প্রতীক হয়ে রয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন ও তাইজুল ইসলাম। নবম উইকেটে তারা অবিচ্ছিন্ন রয়েছেন ৪৮ রানের জুটি গড়ে। এর আগে এ তাইজুলই বল হাতে নিয়েছিলেন ৪টি উইকেট।
চট্টগ্রামের উইকেটে যে স্পিন ধরবে তা গতকাল সকালেই দেখিয়েছিলেন তাইজুল। যে কারণে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৪২ রানের জবাব দিতে কিছুটা হলেও ভয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেটা আরও বেশি করে হয় শুরুতেই সাদমান ইসলাম ফিরে যাওয়ায়। পেসার ইয়ামিন আহমদজাইয়ের অফ স্টাম্পের বাইরে নিখুঁত লেংথের ডেলিভারিতে পরাস্থ হয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। এরপর লিটন দাস ও সৌম্য সরকার থিতু হয়েছিলেন বেশ। এ জুটিতে ৩৮ রানও উঠেছিল। কিন্তু ৬৬ বলে ১৭ রান করা সৌম্য ফেরা দিয়ে মড়ক লাগা শুরু হয় বাংলাদেশের ইনিংসে। লিটন দাস, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমদের কেউ এরপর ইনিংস টানতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৫২ রান আসে মুমিনুল হকের ব্যাট থেকে। তবে টাইগাররা গতকাল দিন পার করতে পেরেছে নবম উইকেটে মোসাদ্দেক-তাইজুলের অবিচ্ছিন্ন ৪৮ রানের জুটিতে। ৭৪ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত মোসাদ্দেক। অন্য প্রান্তে তাইজুল ৫৫ বল খেলে অপরাজিত ১৪ রানে।
আফগান স্পিনারদের বিপক্ষে গতকাল সৌম্য ও লিটন বেশ দেখে শুনেই খেলছিলেন। কিন্তু এ দুই ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খানকে আড়াআড়ি খেলার চেষ্টা করে আউট হন। নবীর বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন সৌম্য। আর রশিদ খানের শর্ট লেংথের বল পুল করতে গিয়ে আউট হন লিটন (৬৬ বলে ৩৩)।
রশিদ খান গতকাল বেশি ভুগিয়েছেন বাংলাদেশকে। দ্বিতীয় সেশনে। নিজের পঞ্চম ওভারেই বাংলাদেশকে ফলো অনের শঙ্কায় ফেলে দেন এ লেগি। তিন বলের ব্যবধানে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমকে ফেরান তিনি। সাকিব (১১) রিভিউ নিয়েও এলবিডব্লিউ থেকে বাঁচতে পারেননি। এক বল পরই মুশফিক (০) ক্যাচ দেন শর্ট লেগে। বল তার জুতোর মাথায় লেগে জমা পড়ে ইব্রাহিম জাদরানের হাতে। এর কিছুক্ষণ পরই আফগান অধিনায়ক বোল্ড করে ফেরান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। মেহেদি হাসান মিরাজও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। কায়েস আহমেদের লেগ স্টাম্পের বল সুইপ করতে গিয়ে তিনি হন বোল্ড। তবে নবম উইকেটে মোসাদ্দেক একটু হাত খুলে খেলার চেষ্টা করেন। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন তাইজুল। আজ এ দুই ব্যাটসম্যানের দিকে তাকিয়ে তাই বাংলাদেশ। এখন দেখার বিষয় স্বাগতিকদের বিপদে তারা কতটুকু কী করতে পারেন।
এর আগে ৫ উইকেটে ২৭১ রান নিয়ে গতকাল দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে আফগানিস্তান। কিন্তু আর ৭২ রান যোগ হতেই দলটি গুটিয়ে যায়। এ জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান তাইজুল ইসলামের। এ বাঁহাতি গত পরশুর ২ উইকেটের সঙ্গে গতকাল আরও নেন ২টি উইকেট। সব মিলিয়ে তার বোলিং বিশ্লেষণ ৪১-৫-১১৬-৪। এদিকে সাকিব আল হাসান ও মেহেদি হাসান নেন ২টি করে উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আফগানিস্তান ১ম ইনিংস: ১১৭ ওভারে ৩৪২ (ইব্রাহিম ২১, ইহসানউল্লাহ ৯, রহমত ১০২, শহিদি ১৪, আসগর ৯২, নবী ০, আফসার ৪১, রশিদ ৫১, কায়েস ৯, ইয়ামিন ০, জহির ০*; তাইজুল ৪১-৫-১১৬-৪, সাকিব ২২-১-৬৪-২, মিরাজ ২৮-৫-৭৩-১, নাঈম ১৩-০-৪৩-২, মাহমুদউল্লাহ ৪-০-৯-১, সৌম্য ৪-০-২৬-০, মুমিনুল ৪-০-৯-০, মোসাদ্দেক ১-০-১-০)।
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৬৭ ওভারে ১৯৪/৮ (সাদমান ০, সৌম্য ১৭, লিটন ৩৩, মুমিনুল ২৭*, সাকিব ১১, মুশফিক ০, মাহমুদউল্লাহ ৭, মোসাদ্দেক ৪৪*, মিরাজ ১১, তাইজুল ১৪*; ইয়ামিন ১০-২-২১-১, নবী ২০-৬-৫৩-২, জহির ৯-১-৪৬-০, রশিদ ১৮-৩-৪৭-৪, কায়েস ৮-২-২২-১)।

সর্বশেষ..