সম্পাদকীয়

নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং জোরদার করুন

পেঁয়াজের দামের ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি রীতিমতো ব্যঙ্গাত্মক নিন্দায় পৌঁছেছে। একটি বড় পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে প্রায় ৩০ টাকায়। সেই সঙ্গে হঠাৎ করেই চালের দাম কেজিতে দুই থেকে সাত টাকা বৃদ্ধি অশনিসংকেত মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয়। আবার কাঁচাবাজারে সবজির দামেও নাভিশ্বাস পরিস্থিতি বিরাজমান বলে জানাচ্ছে গণমাধ্যম। হঠাৎ করে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের এভাবে মূল্যবৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য নয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সিন্ডিকেটের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতি রুখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং জরুরি বলে মনে করি। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অধিকতর দায়িত্বশীল ভূমিকা কাম্য।

বেশিরভাগ পেঁয়াজ ৪৪ টাকায় আমদানি করে প্রায় ২৭০ টাকায় কেন বিক্রি হয়? মন্ত্রীর বারবার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে সিন্ডিকেট শনাক্ত করেছে প্রশাসন। তবুও পেঁয়াজের দাম কমেনি, বরং বেড়েছে। এমন পরিস্থিতি কাম্য হতে পারে না। প্রশাসন যে সিন্ডিকেট চিহ্নিত করেছে বলে তারা দাবি করছে, সেই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এখনও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি; যা জনমনে হতাশার জš§ দিচ্ছে বৈকি। এখন চালের দামেও যদি একই পরিস্থিতি দেখা দেয়, তাহলে নি¤œবিত্তের মানুষের দিনগুজরান করা কঠিন হয়ে পড়বে বলেই ধারণা।

দেশে চালের পর্যাপ্ত উৎপাদন ও মজুত থাকায় দাম বাড়াকে অযৌক্তিক মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা। খুচরা বিক্রেতারা চালকল মালিকদের সিন্ডিকেটকে  দুষলেও চালকল মালিক সমিতি থেকে বলা হচ্ছে, যে হারে খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে, পাইকারি বাজারে সে হারে বাড়েনি। তবে চালকল মালিকরা ধানের দাম বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে দাবি করছেন। আবার ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার বাজার তদারকি করছে না। ব্যবসায়ীরা নিজের বিবেকের লাগাম এবং রাষ্ট্রীয় লাগাম উভয় হারিয়েই যথেচ্ছাচারী আচরণ শুরু করেছেন।

চাল, ডাল, পেঁয়াজ, তেল প্রভৃতি নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে বলে দাবি ভোক্তাসাধারণের। তবে কিছু পাইকার ঘূর্ণিঝড়ের দোহাই দিয়ে খুচরা বাজারে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দাম বাড়ানোর চক্রান্ত করছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সেটা সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তবে কৃষকের কাছ থেকে সরকারের বেশি মূল্যে ধান কেনার ঘোষণা আসার পরেই ধানের দাম বেড়েছে বলে অভিযোগ। বাস্তবায়ন হওয়ার আগে ঘোষণা হওয়া মাত্রই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি আশঙ্কাজনক। এভাবে ব্যবসার প্রতিটা ক্ষেত্রে পারস্পরিক অভিযোগ, ধোঁয়াশা আর গুজব প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। সরকারের তেমন কোনো নিয়ন্ত্রণ চোখে পড়ছে না। অথচ বর্তমান সরকারকে এর চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্পষ্ট সংকট সমাধানে সাহসী ও সফল উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণেও সরকার সফলতার পরিচয় দেবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..