সম্পাদকীয়

নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে উদ্যোগ নিন

নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক সংক্রমণের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সারা বিশ্বে। বাংলাদেশের অবস্থা কী, কমবেশি সবাই জানি। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত সর্বাপেক্ষা বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে। কাজ হারিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। চাকরিজীবীদের বেতন কমেছে। যারা মাসিক বেতনের ওপর নির্ভরশীল, কাজ হারিয়ে তারা কতটা ভোগান্তিতে আছেন, তা ভুক্তভোগী ছাড়া কে বুঝবে? কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তেমন কোনো সঞ্চয় নেই; যা ছিল এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। জীবনধারণে চরম সংকটে সবাই। খেটে খাওয়া মানুষজন আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার চিন্তায় অস্থির। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ শহর থেকে গ্রামে চলে যাচ্ছে। রাজধানী শহর ছেয়ে যাচ্ছে ‘বাড়ি ভাড়া’র বিজ্ঞপ্তিতে। কেবল সরকারি চাকরিজীবীরাই বেতন-বোনাস নিয়মিত পাচ্ছেন। এর বাইরে রোজগার কমছে সবার। বাধ্য হয়ে খরচের লাগাম টানতে হচ্ছে। বাড়ি ভাড়া বকেয়া পড়ছে মাসের পর মাস। কষ্টে-সৃষ্টে চলছে সাধারণ মানুষের জীবন। এ অবস্থায় নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন অনেকে। যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

গতকাল শেয়ার বিজের খবরে বলা হয়, চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে চাল, ডাল, মুরগি ও ডিম। মোটা চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারে মিনিকেট, নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৬২ টাকায়। মোটা স্বর্ণা, পাইজাম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। গত সপ্তাহের তুলনায় হালিতে দুই টাকা বেড়েছে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম। খুচরায় ডিম কিনতে হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা হালি, যা ছিল ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা। কমেনি মুরগির দামও। আগের মতোই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি।

নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষের বিড়ম্বনা বেড়েছে। খরচ বাঁচাতে যতই কাটছাঁট করা হোক না কেন, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা থেকে এসব পণ্য বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। অথচ সেগুলোর দাম ক্রমেই চলে যাচ্ছে নাগালের বাইরে। মাছের দাম কমলেও তা কেনার সামর্থ্য নেই অনেকের।  মোট কথা, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে গঠিত দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেল সক্রিয় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিত্যপণ্যের উৎপাদন, চাহিদা, আমদানির পরিমাণ, মজুদ ও সংগ্রহ পরিস্থিতি এবং বিতরণ ব্যবস্থাসহ বিবিধ তথ্য পর্যালোচনাপূর্বক ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। টিসিবির মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যক নিত্যপণ্যের মজুদ গড়ে তুলতে হবে এবং খোলাবাজারে বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় যাতে বিঘ্ন না ঘটে এবং পথে পথে চাঁদাবাজি শূন্য সহনশীলতায় বন্ধ করতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..