সম্পাদকীয়

নিত্যপণ্য ও ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিন

নভেল করোনাভাইরাস রোগের (কভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবে বিশ্ব কাঁপছে। আক্রান্ত ও প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশেও প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এ সুযোগে একশ্রেণির ব্যবসায়ী পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। করোনায় প্রাণহানির খবর ছড়িয়ে পড়তেই অতিরিক্ত নিত্যপণ্য কেনার হিড়িক পড়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে আশ্বস্ত করা হলেও পণ্য মজুদ করে রাখছে অনেকেই। মওকা পেয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন অসাধু ব্যবসায়ীরাও। ৪০ টাকা কেজির পেঁয়াজ ৮০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। সব নিত্যপণ্যেরই দাম বেড়েছে। সংঘবদ্ধ ব্যবসায়ীদের কাছে একপ্রকার জিম্মি সাধারণ মানুষ।

নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতিতে চলছে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস। এ সময় গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত হয়েছে ‘ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি নোয়াখালীর ওষুধ বাজার’ শীর্ষক প্রতিবেদন। খবরে জানা যায়, সমিতির নামে বিভিন্ন ওষুধের দাম ইচ্ছেমতো আদায় করছেন ব্যবসায়ীরা। নিজেরা তৈরি করেছে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের (এমআরপি) সিলমোহর। ওষুধের প্যাকেটে দাম বেশি দেখানো সিল মারা হচ্ছে। ফার্মেসি মালিকদের কেউ প্রতিবাদ করলে সমিতির নেতারা তাকে শাসিয়ে দেন বলেও জানা গেছে। ফলে সাধারণ মানুষকে বেশি দামেই ওষুধ কিনতে হচ্ছে।

ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় সীমিত ও স্বল্প আয়ের লোকজনের ভোগান্তি বেড়েছে। স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে উদ্যোগ না থাকায় ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হবে, আর স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে না, এটি দুঃখজনক। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের উচিত সাধারণ মানুষের যৌক্তিক দাবি পূরণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশ নয় বরং বেশি দাম নেওয়ার বিষয়ে গোচরে না আসায় প্রশাসন প্রতিকারে ব্যবস্থা নেয়নি।

চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএ’র জেলা শাখার এক নেতা বলেছেন, ‘ওমিপ্রাজল গ্রুপের একটি ট্যাবলেট উৎপাদনে ৬০ পয়সা ব্যয় হয়। কিন্তু এটি পাঁচ টাকায় বিক্রি করা হয়। সব ওষুধই উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। ওষুধের বাজার নিয়ে বছরের পর বছর এই নৈরাজ্য চলছে। সরকারও এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সুযোগ দিচ্ছে।’ ওষুধ প্রস্তুতকারকরা সরকারের আনুকূল্য পেয়ে ওষুধের দাম বেশি করে নির্ধারণ করবেন, আবার বিক্রেতাদের আরেক দফা দাম বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এটি দুঃখজনক। ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে তদারকি, অভিযান পরিচালনা এবং প্রয়োজন হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেতে পারে স্থানীয় প্রশাসন। সাধারণ মানুষের ক্রয়সাধ্য মূল্যে উন্নতমানের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধগুলোর পর্যাপ্ত সরবরাহ ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। ওষুধ আমদানিকারক, প্রস্তুতকারক, বাজারজাতকারী ও বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রক হিসেবে সংস্থাটি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিরসনে ভূমিকা রাখবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..