মার্কেটওয়াচ

নিন্মমানের কোম্পানি আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যানই যদি বিতর্কিত হন তাহলে বাজার ভালোভাবে চলতে পারে না। তখন বাজারে নানা বিশৃঙ্খলতার সৃষ্টি হয়। ১৯৯৬ সালে নিন্মমানের অনেক কোম্পানি বাজারে আনা হয়েছিল। এখনও সেই নিন্মমানের কোম্পানি বাজারে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এটা আসলে কাম্য নয়। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ফজলুল বারী এবং একাত্তর টেলিভিশনের সিনিয়র বিজনেস এডিটর কাজী আজিজুল ইসলাম মাখন।
ফজলুল বারী বলেন, জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত বিএসইসির যত চেয়ারম্যান এসেছেন, বর্তমান চেয়ারম্যানের মতো এত বিতর্কিত ব্যক্তি আর দেখিনি আমার সাংবাদিকতা জীবনে। এটা কোনো মতে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একটি পুঁজিবাজারে চেয়ারম্যান যদি বিতর্কিত থাকেন তাহলে বাজার ভালোভাবে চলতে পারে না। তখন বাজারে বিশৃঙ্খলতার সৃষ্টি হয়। ১৯৯৬ সালে নিন্মমানের অনেক কোম্পানি বাজারে আনা হয়েছিল। এখনও সেই নিন্মমানের কোম্পানি বাজারে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এটা আসলে কাম্য নয়। বাজার বেগবান রাখার জন্য নীতিগত অনেক সহায়তা দিয়েছে সরকার। এবার বাজেটে তা দেখা গেছে এবং প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন সভায় এ বিষয়ে মতপ্রকাশ করেছেন। কিন্তু সে নীতিগত সহায়তা কার্যকর করা হচ্ছে না। এসবের তদন্ত করা উচিত। পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জায়গা। সরকারের বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ রয়েছে। এসব কাজের জন্য পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করলে খরচ কমে যাবে। তখন ব্যাংকের দিকে তাকাতে হবে না। ব্যাংক থেকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নেওয়া হলে ব্যাংকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং ব্যাংকের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসবেন না। দেশীয় বিনিয়োগকারী হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, বাজারে এখন বিভিন্ন কারসাজি হচ্ছে। কিন্তু বিএসইসি, ডিএসই এবং সিএসই এ ধরনের কারসাজি বন্ধ করতে পারছে না। কথা হচ্ছে কেন পারছে না? এখানেই আমার প্রশ্ন।
কাজী আজিজুল ইসলাম মাখন বলেন, যখন বাজার আর বাজার থাকে না, তখন বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় জর্জরিত হয়। এখন বাজারে সেটাই দেখা যাচ্ছে। যখন বাজারে এ অবস্থা বিরাজ করে, তখন যে পণ্যের চাহিদা নেই, তার চাহিদা বেড়ে যায়। ভালো পণ্যের চাহিদা কমে যায়। অর্থাৎ যে পণ্য বিক্রি হওয়ার কথা সে পণ্যটি বিক্রি হবে না। আবার দেখা যায় ভালো বিনিয়োগকারীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। খারাপ বিনিয়োগকারীদের শাস্তি না দিয়ে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। এ রকম অবস্থায় চলে এসেছে বাজার। এটি বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে। এখনও এ ধরনের বিচারব্যবস্থা চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আসলে এখনও বাজারে নিন্মমানের কোম্পানি আনার প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে। যেসব কোম্পানি বাজারে আনা দরকার সেগুলোকে আনার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তাদের কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ বা উৎসাহিত কিছুই করা হচ্ছে না। এখনও যদি এখান থেকে বেরিয়ে আসা না যায়, সেক্ষেত্রে পুঁজিবাজার এবং দেশের অর্থনীতির জন্য খুব খারাপ হবে।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..