প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নিবন্ধনহীন বয়লার ৬০ দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: পোশাক কারখানাসহ দেশের যেসব শিল্প-কারখানায় বয়লারের নিবন্ধন নেই, সেসব বয়লার ৬০ দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি জুবায়ের রহমান ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে সব কারখানার বয়লার পরিদর্শনের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। গত ৩ জুলাই গাজীপুরের নয়াপাড়ায় মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড নামের একটি কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে ১৩ জনের প্রাণহানির ১৫ দিনের মাথায় উচ্চ আদালতের এ নির্দেশনা এলো।

গাজীপুরের ওই ঘটনায় ৪২ জন শ্রমিক-পথচারীও আহত হয়েছিলেন। বয়লার বিস্ফোরণের ১৩ জনের নিহতের ঘটনায় মালিকের বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর করার নির্দেশনা এবং নিহতদের ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসা ব্যয়ের নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়।

জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান মিলন এ রিট করেছিলেন। রিটের পাশাপাশি বয়লার আইনের বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছিল। বয়লার নিয়ে ১৯২৩ সালের একটি আইন রয়েছে। সে আইনে বয়লারের ব্যবহার নিয়ে একটি বিধিমালা প্রণয়নের কথা রয়েছে। কিন্তু সেটা এখনও করা হয়নি। তাই এটি প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়।

এছাড়া বয়লার নিয়ে আইনের বিধান অনুসরণে বিবাদীদের ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়। সেই রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, শ্রম সচিব, শিল্প সচিব, বিজিএমইএর সভাপতি, প্রধান বয়লার পরিদর্শকসহ ১৭ জনকে বিবাদী করা হয়।

বিস্ফোরণের দিনই জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে। বয়লারের ডেলিভারি ভাল্ব বন্ধ রেখে অতিরিক্ত প্রেসার তৈরির চেষ্টা করায় বিস্ফোরণ হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে। পরে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি বিস্ফোরণের পেছনে সাতটি ত্রুটি ও দুর্বলতা চিহ্নিত করে। সেগুলো হচ্ছে বয়লারের প্রেসার গেজ নষ্ট হয়ে যাওয়া, ডেলিভারি লাইন বন্ধ থাকা, লিভারটিতে সøট না কাটা, প্রেসার রিলিজ না করা, অপারেটরদের তদারকের অভাব, অবকাঠামোগত ও ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি।