প্রচ্ছদ শেষ পাতা

নিবন্ধন ছাড়াই মূসক নেবে বিটিআরসি

রহমত রহমান: মূসক আইন অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থাকলে বাধ্যতামূলকভাবে মূসক নিবন্ধন নিতে হবে। এ অনুযায়ী বিটিআরসি সরকারি প্রতিষ্ঠান হলেও এর মূসক নিবন্ধন নিতে হবে। তবে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিবন্ধন ছাড়াই বিটিআরসি মোবাইল ফোন অপারেটর থেকে মূসক আদায় করতে পারবে। যদিও অপারেটরগুলো নিবন্ধন না থাকার অজুহাতে এত দিন বিটিআরসিকে কোনো মূসক দেয়নি। সম্প্রতি এনবিআর থেকে বিটিআরসিকে এ-সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা বলেন, বিটিআরসির মূসক নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই বলে এনবিআর ব্যাখ্যা দিয়েছে। এর মাধ্যমে অপারেটরগুলোর আর আপত্তি তোলার সুযোগ নেই। অপারেটরগুলো এখন নিশ্চিন্তে মূসক জমা দিতে পারবে। তিনি আরও বলেন, এনবিআরের এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী অপারেটরগুলো বছর বছর যেভাবে মূসক পরিশোধ করে আসছে এখনও সেভাবে পরিশোধ করবে। জটিলতা নিষ্পত্তিকালীন সময়ে অপারেটররা মূসক ছাড়া চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের যে রাজস্ব জমা দিয়েছে, এখন সরকারের সেই পাওনা তো পরিশোধ করতেই হবে।
এনবিআরের দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৪-এর উপধারা ২ অনুযায়ী উৎসে কর কর্তনকারী হিসেবে বিটিআরসির মূসক নিবন্ধন গ্রহণের প্রয়োজন নেই। তবে আইন অনুযায়ী, যদি কোনো ইকোনমি অ্যাক্টিভিটি পরিচালনা করে তবে নিবন্ধন নিতে হবে।
এনবিআর সূত্র জানায়, রবি-এয়ারটেল একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে বিটিআরসির ভ্যাট নিবন্ধন না থাকার অজুহাতে ৯১ কোটি টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেনি রবি। এ বিষয়ে সম্প্রতি রবি আজিয়াটা লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট একরাম কবিরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বিটিআরসির ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নেই বলে ভ্যাট রিসিভ করতে পারে না। সরকারের পক্ষ থেকে সে ক্ষমতায়ন তাকে করা হয়নি। যেসব ভ্যাট আমরা দেব, সেগুলোর ব্যাংক গ্যারান্টি আমরা রেডি করে রেখেছি। ক্ষমতা দেওয়া হলে আমরা এ ভ্যাট দিয়ে দেব।’
অন্যদিকে, বাংলাদেশ রেলওয়ের অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক (ওএফসি) ব্যবহার করে বেসরকারি মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন। এ অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের জন্য গ্রামীণফোন রেলওয়ের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ভাড়ার সঙ্গে ১৫ শতাংশ হারে গ্রামীণফোনের ভ্যাট পরিশোধের কথা। কিন্তু চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে এ ভ্যাট পরিশোধ করছে না কোম্পানিটি। অজুহাত ‘রেলওয়ে ভ্যাট চালান ইস্যু করছে না’। অর্থাৎ রেলওয়েকে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হবে। প্রায় ১৬ কোটি টাকা ভ্যাট বকেয়া পড়েছে। এ ভ্যাট আদায়ে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এনবিআর চেয়ারম্যানকে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশন সৈয়দ তালাত কামাল শেয়ার বিজকে বলেন, ‘একটি ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে যে কোনো ভ্যাট পরিশোধের বিপরীতে গ্রামীণফোনকে ভ্যাট চালান দিতে বাধ্য। কিন্তু তারা ভ্যাট পরিশোধ করতে বললেও গ্রামীণফোনকে ভ্যাট চালান বা এনবিআর অনুমোদিত কোনো চালান দিচ্ছে না। গ্রামীণফোন বারবার অনুরোধ করার পরও রেলওয়ে কোনো চালান দেয়নি। তাই গ্রামীণফোন রেলওয়ের সঙ্গে চুক্তির ২১তম বছরের তৃতীয় ও চতুর্থ প্রান্তিক ও ২২তম বছরের প্রথম প্রান্তিকে পরিশোধিত ভাড়ার সঙ্গে ভ্যাট প্রদান বন্ধ রেখেছে। ভ্যাট চালানের মাধ্যমে ভ্যাট দাবি করা মাত্রই গ্রামীণফোন অপরিশোধিত ভ্যাট পরিশোধ করে দেবে।’

বিটিআরসির মূসক নিবন্ধন বিষয়ে এনবিআরের মূসক বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেয়ার বিজকে বলেন, বিটিআরসিকে নিবন্ধন দিতে আদালতও নির্দেশ দিয়েছেন। বেশ কিছু মহল থেকে চাপও এসেছে। কিন্তু এনবিআর আইনের বাইরে যেতে পারে না। কারণ বিটিআরসি তো ব্যবসা করে না। তাহলে কেন বিটিআরসিকে মূসক নিবন্ধন নিতে হবে? বিটিআরসিকে নিবন্ধন দিলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে না বরং কমবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মোবাইল অপারেটর বিটিআরসি থেকে চালান নেবে, সেই চালান দিয়ে রেয়াত নেবে। অপারেটরগুলো একদিকে দেবে, অন্যদিকে নেবে। এতে রাজস্ব ক্ষতি হবে। সেজন্য নিবন্ধন দেওয়া হয়নি।

সূত্র জানায়, বিটিআরসির মূসক নিবন্ধন জটিলতা প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় পর্যন্ত গিয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে এক বৈঠকে সজীব ওয়াজেদ জয় বিটিআরসিকে সাতদিনের মধ্যে নিবন্ধন দিতে নির্দেশ দেন। এনবিআর যাচাই শেষে সম্প্রতি বিটিআরসিকে নিবন্ধন না দেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়। এর আগে মূসক পরিশোধ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার কারণে ১০ জুলাই মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের রাজস্ব জমা দিতে গিয়ে পারেনি।

সর্বশেষ..