সম্পাদকীয়

নিম্নমানের রেল কোচের মূল্য পরিশোধ বন্ধ হোক

রাষ্ট্রীয় কেনাকাটার কোনো চুক্তিই গোপন বিষয় নয়। গোপনীয়তা তখনই জরুরি হয়ে দাঁড়ায়, যখন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয় থাকে। এটি ছাড়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং অনিয়ম দূরীকরণে রাষ্ট্রীয় কেনাকাটা প্রকাশ্যে নিয়মতান্ত্রিকভাবে দরপত্র গ্রহণসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক-প্রক্রিয়া জনস্বার্থে প্রকাশ্যে হওয়াই বাঞ্ছনীয়। অবাধ তথ্য প্রবাহের বর্তমান সময়ে এর ব্যত্যয় হলে তাতে কোনোরূপ অনিয়ম হয়েছে বলেই ধরে নেয়া যায়। এটি স্বাভাবিক যে, কেনাকাটায় স্বচ্ছতা থাকলে প্রতিযোগিতামূলক দামে সরঞ্জাম কেনা যায়, যোগ্যতম সরবরাহকারীই ক্রয়াদেশ পেয়ে থাকেন। এমন হলে মানসম্পন্ন পণ্য অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী দামে কেনা যায়। তাতে রাষ্ট্র ও জনসাধারণ উপকৃত হয়। অনিয়ম-দুর্নীতি হলে নি¤œমানের পণ্য কেনা হয়। এটি কম দাম হলেও পরবর্তী সময়ে এর রক্ষণাবেক্ষণে বেশি অর্থ খরচ করতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পণ্য-সরঞ্জাম অকেজো হয়ে যায়। জনগণের দেয়া করের অর্থেই রাষ্ট্রীয় ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তাই জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিতে সরকার মানসম্পন্ন সরঞ্জাম সংগ্রহকে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিবীক্ষণ, সমাপ্ত প্রকল্পের মূল্যায়ন এবং সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর সহায়তা দিতে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগও কাজ করছে।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘হুন্দাইয়ের নিম্নমানের ১০টি ইঞ্জিন: লকডাউনের মধ্যেই গোপনে মূল্য পরিশোধের পাঁয়তারা’ শীর্ষক প্রতিবেদন পাঠকের মনোযোগ কাড়বে বলেই ধারণা। যেখানে লকডাউনে সব একপ্রকার স্থবির হয়ে আছে, সেখানে গোপনে মূল্য পরিশোধের বিষয়টিতে কোনো রহস্য আছে, সে প্রশ্নও উঠবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি সপ্তাহেই চুক্তিমূল্যের ৬৫ শতাংশ অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইঞ্জিনের কার্যকারিতা যাচাইয়ের আট মাস পর আবারও পরীক্ষামূলক চলাচল এবং জুনের মধ্যে প্রকল্প শেষ করতে নতুন পিডির আগ্রহ দেখিয়েছেন।

নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্প শেষ করা আমাদেরও প্রত্যাশা। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম থেকে কেনা ১০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন কেনা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। দরপত্রের শর্তানুসারে যন্ত্রাংশ সংযোজন করা হয়নি। নি¤œমানের যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি করা ইঞ্জিন সরবরাহ করায় হুন্দাই রোটেমের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশও করেছিল তদন্ত কমিটি।

দুই মাসের বেশি পেরিয়ে গেলেও কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এখন লকডাউনে সরকারি সব অফিস বন্ধ থাকলেও গোপনে ইঞ্জিনগুলোর মূল্য পরিশোধের উদ্যোগও রহস্যাবৃত। নি¤œমানের ইঞ্জিন সরবরাহের কারণে চুক্তি মূল্যের ৬৫ শতাংশ অর্থ আটকে দেন এবং নি¤œমানের ইঞ্জিন গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান তিনি। তদন্ত কমিটিও সত্যতা পেয়েছে। অথচ পিডিকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না হলে তারা প্রশ্রয় পাবে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন না হলে কমিটি গঠনের কোনো যুক্তি নেই। কমিটিও গঠিত হবে, অর্থ লোপাটও সমতালে চলবে, এটি হাস্যকর। আমরা আশা করি, জনস্বার্থে নি¤œমানের রেল কোচের মূল্য পরিশোধ বন্ধ করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..