দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

নিয়মবহির্ভূত উপায়ে পরিশোধ করা হয়েছে ঠিকাদারের বিল

মুহুরী নদীর তীর সংরক্ষণ কাজে গোঁজামিল

মাসুম বিল্লাহ: ভাঙন থেকে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মনিপুর ও ছাগলনাইয়া পৌরসভার দক্ষিণ সতর এলাকা রক্ষার জন্য গৃহীত হয়েছিল মুহুরী নদীর বাম তীর রক্ষা প্রকল্প। এরই মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। অথচ প্রকল্প বরাদ্দের অর্থের ২৩ শতাংশের বেশি ব্যয় করা হয়নি। আবার ঠিকাদারকে যে বিল পরিশোধ করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়নি প্রচলিত নিয়ম-কানুন। ব্যাপক মাত্রায় অডিট আপত্তি থাকা সত্ত্বেও গুণগত মান পরীক্ষা না করেই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

জানা যায়, মুহুরী নদীর ভাঙন ঠেকাতে ‘ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী উপজেলাধীন দক্ষিণ সতর নদীর কূল ও মনিপুর এলাকা মুহুরী নদীর বাম তীর ভাঙন হতে রক্ষা’ শীর্ষক প্রকল্প গৃহীত হয়। এটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পটির মোট বরাদ্দ প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে মোট ব্যয় হয়েছে ১৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পটির কাজ যথাসময়েই শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রকল্পের অর্থছাড়সহ বেশকিছু বিষয়ে নিয়মের ব্যত্যয় খুঁজে পেয়েছে আইএমইডি।

আইএমইডির পর্যবেক্ষণ থেকে জানা যায়, প্রকল্পটির বিষয়ে বিস্তর অডিট আপত্তি রয়েছে। সে আপত্তি নিষ্পত্তি না করেই চূড়ান্ত ও চলতি দাবি বাবদ ঠিকাদারকে মোট ১৪ কোটি ১০ লাখ পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রধান প্রকৌশলী ও টাস্কফোর্সের আহ্বায়কের মাধ্যমে কাজের গুণগত মান পরিমাপ ও পরিবীক্ষণ করা হয়নি এবং এ-সংক্রান্ত যাচাই প্রতিবেদনও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাখিল করা হয়নি। এছাড়া বিল পরিশোধ করা হয়েছে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে। বিষয়টি যথাযথভাবে হয়নি বলে  জানিয়েছে আইএমইডি। আবার প্রকল্পটির মোট বরাদ্দ ১৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা হলেও প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ১৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এ অর্থেই প্রকল্পের পুরো কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে এ ধরনের বক্তব্যে সন্দেহ প্রকাশ করেছে আইএমইডি কর্তৃপক্ষ। আর প্রকল্পে ১৪ কোটি ৮১ টাকা ব্যয় করা হলেও ১১ কোটি টাকার বিষয়েই অডিট আপত্তি রয়েছে বলে আইএমইডি সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের পরিচালক শাহজাহান সিরাজ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বর্তমানে আমি অন্যত্র বদলি হয়ে গিয়েছি। তবে যতটা জানি, সব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করা হয়েছিল। আর আমি দায়িত্বে থাকাকালে কোনো অডিট আপত্তি উত্থাপিত হয়নি। এটা পরে হয়ে থাকতে পারে।’ এ বিষয়ে ফেনী জেলার দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হালনাগাদ অবস্থা জানাতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। আর ১৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও অবশিষ্ট অর্থ ব্যয় ব্যতিরেকেই প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়ে গেছে বলে দাবি করেন শাহজাহান সিরাজ। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের  ফেনী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাসির উদ্দিনের ব্যক্তিগত ফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

জানা যায়, মুহুরী নদীর তীরবর্তী দক্ষিণ সতর নদীর কূল ও মনিপুর এলাকার ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদরাসা, বসতভিটা প্রভৃতি রক্ষার লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ার পর প্রতিরক্ষা বাঁধের পাশ থেকে মাটি উত্তোলন করে রাস্তা নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং স্থানীয়রা সেখানে বাগান করেছেন। এতে প্রতিরক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে আইএমইডির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..