সম্পাদকীয়

নিয়ম মেনেই পরিশোধ হোক ঠিকাদারের বিল

সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়মবহির্ভূত উপায়ে ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করার অভিযোগ নতুন নয়। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘নিয়মবহির্ভূত উপায়ে পরিশাধ করা হয়েছে ঠিকাদারের বিল’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রমাণ করে আমরা এখনও এই অপসংস্কৃতি পরিহার করতে পারিনি।

মহুরী নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থের ২৩ শতাংশের বেশি ব্যয় করা হয়নি। অথচ প্রচলিত নিয়ম উপেক্ষা করেই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। নিরীক্ষা আপত্তি থাকা সত্ত্বেও গুণগত মান পরীক্ষা না করেই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে।

আইএমইডি’র পর্যক্ষেণ না থাকলে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বিল পরিশোধের বিষয় প্রকাশিত হতো না। পরিশোধ করা ১৪ কোটি টাকার মধ্যে ১১ কোটিতেই অডিট আপত্তি রয়েছে। প্রকল্প পরিচালক এবং ফেনীর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এর দায় এড়াতে পারেন না। আমরা জানি না, এখানে কার সংশ্লিষ্টতা কতটুকু। তবে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের ব্যক্তিদেরই অনিয়মের দায় নিতে হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ার পর প্রতিরক্ষা বাঁধের পাশ থেকে মাটি উত্তোলন করে রাস্তা নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং স্থানীয়রা সেখানে বাগান করেছেন। এতে প্রতিরক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের অর্থে সম্পাদিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড রক্ষা করতে হলে এর সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি এগুলো রক্ষা করার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে।

সরকারি প্রকল্পের নির্মাণকাজে অনিয়ম দুর্নীতি নতুন বিষয় নয়। কাজ শেষ না করেই ঠিকাদার বিল ও জামানত তুলে নিয়ে গেছে, এমন অনেক খবর গণমাধ্যমের কল্যাণে আমাদের জানা। নিয়ম হচ্ছে, কাজ শতভাগ শেষ হওয়ার পরই পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ও জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। অনেক সময় বিল পেলে কাজ সম্পূর্ণ না করেই কাজ গুটিয়ে নেয় ঠিকাদার। বিষয়টি জানাজানি হলে বাকি কাজ সমাপ্ত করার জন্য পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে দায়ী ঠিকাদার প্রশ্রয় পায় আবার রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হয়। যে ঠিকাদার চুক্তি ভঙ্গ করবে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিভাগীয় নিয়ম অনুযায়ী, ঠিকাদারের সঙ্গে আলোচনা করে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। তাই ঠিকাদারকে ডাকতে হবে। প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে বাকি কাজের মূল্যের ওপর ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে তা আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

দায়িত্বহীনতার জন্য ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে। নির্দিষ্ট সময় যাতে নতুন কোনো কাজ না পায়, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের দেশে সাধারণত ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাই সরকারি কাজের ঠিকাদারি পেয়ে থাকেন এবং খেয়াল-খুশিমতো কাজ করেন। তীর সংরক্ষণ কাজে যেহেতু গোঁজামিলের জন্য দায়িত্বশীলদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..