মত-বিশ্লেষণ

নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন অবকাঠামো প্রয়োজন

ইউনিসেফ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রধান ডা. সানজানা ভরদ্বাজ বলেন, ‘এ সময় কভিড-১৯-এ সংক্রমিত হওয়ার ব্যাপারে উভয় পক্ষেরই ভয় ছিল। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসার ক্ষেত্রে রোগীরা ভীত ছিল। আবার কাজ করার সময় স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম পাননি।’

গত বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ২০০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর পরিচালিত একটি সমীক্ষায় প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, কভিড এবং নন-কভিড উভয় ক্ষেত্রে সেবা দেয়ার জন্য ৭০ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত অক্সিজেন অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরঞ্জাম ছিল না।

ভালো ফলাফলের জন্য সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি: বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে ইউনিসেফ ও যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) ভোলাসহ আটটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত জেলায় মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

দেশের পাঁচটি দরিদ্রতম জেলার একটি হিসেবে ভোলা স্বতন্ত্র চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এটি একটি দ্বীপ জেলা। এই জেলাটি প্রায়ই বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড় দ্বারা প্রভাবিত হয়। এই জেলায় কোনো রাস্তা বা রেল সংযোগ নেই। শুধু নৌকায় করেই মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানো যায়।

ভোলা জেলা হাসপাতালের স্পেশাল কেয়ার নবজাতক ইউনিটের (স্ক্যানু) ঊর্ধ্বতন স্টাফ নার্স অ্যানি লুসিয়া বাড়ৈ বলেন, জরুরি চিকিৎসার জন্য যদি রোগীদের ভোলা থেকে বরিশাল বা ঢাকায় স্থানান্তরিত করা দরকার হয়, তবে আমাদের অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যায়। এর কারণ হলো যাতায়াতের সুযোগ-সুবিধা বেশ জটিল। এই জেলায় যদি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা এবং মানবসম্পদ পাওয়া না যায়, তবে রোগীরা মারা যেতে পারে।

ইউনিসেফ-এফসিডিওর সহায়তায় ভোলা জেলা হাসপাতালের এসসিএএনএনউ’তে (স্ক্যানুতে) অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, সিলিন্ডার, ফ্লোমিটার, রেডিয়েন্ট ওয়ার্মার এবং রিসাসসিটেটরসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংক্রমণ প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হয় এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে সন্দেহভাজন কভিড-১৯ রোগীকে অন্যান্য রোগী থেকে পৃথক করার জন্য ট্রিজেস পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে।

ডা. ভরদ্বাজ বলেন, আমরা স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের ‘ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার’, নবজাতকের যত্নের মান এবং অক্সিজেন থেরাপির ব্যবহারের পাশাপাশি ডেটা ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছি।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..