স্পোর্টস

নিরাপত্তা নয়, মাহমুদউল্লাহর ভাবনায় জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক: বেশ আগে থেকেই পাকিস্তান সফরে বাংলাদেশ দলের চিন্তায় বড় একটা অংশজুড়ে রয়েছে নিরাপত্তা শঙ্কা। টি-টোয়েন্টি সিরিজের মূল লড়াইয়ের একদিন আগেও লাহোরে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষেও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কাছে ছুটে গেল এ নিয়ে প্রশ্ন। তবে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, ব্যাপারটি নিয়ে মোটেও ভাবছেন না। তার চিন্তায় শুধুই জয়। ধারাবাহিকভাবে এ ধারা ধরে রেখে তিনি সিরিজটাও নিজেদের করে নিতে চান।

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়েই গত পরশু বিমানবন্দর থেকে হোটেলে পৌঁছায় বাংলাদেশ দল। দেশটিতে সব সময় সন্ত্রাসী হামলার ভয় কাজ করে। যে কারণে এ সফরে টাইগাররা সব সময় থাকবেন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে। এমন পরিবেশে অবশ্য মাঠের ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়া কঠিন। তবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আপাতত নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছেন না। তিনি শুধু আজ থেকে বিকাল ৩টায় শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজের চোখ রাখছেন। তার লক্ষ্য ভালো খেলে স্বাগতিকদের হারানো, ‘যখন আমরা সিদ্ধান্ত নিই, বোর্ড থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আমরা এখানে খেলব। এরপর থেকে এখানকার পরিবেশ কেমন হবে সেসব চিন্তা বাদ দিয়েছি। আমার মনে হয় ওই চিন্তা-ভাবনা থেকে সরে আসাই ভালো। আমরা শুধু এখানে ভালো খেলার জন্যই আসছি, সেটির জন্যই মুখেছি আছি।’

২০০৮ সালে সর্বশেষ বার পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই সফরে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। তাই এখনকার উইকেট ও পরিবেশ সম্পর্কে ভালো ধারণা আছে এ ডানহাতির। তবে ব্যাপারটি মনেই আনছেন না তিনি। তার লক্ষ্য ভালো খেলে পাকিস্তানকে হারানো, ‘আমিও আগেও এখানে এসেছি। এবার অবশ্য আমরা এসেছি তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি খেলতে। তাই এদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য ভালো খেলা ও পাকিস্তানকে হারানো।’

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছে ১০ বার। এ লড়াইয়ে টাইগাররা জিতেছে মাত্র দুটিতে। এ দিক দিয়ে হিসাব করলে আজ ফেবারিট পাকিস্তান। তাছাড়া দলটি র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে। যেখানে লাল-সবুজদের অবস্থান নয়ে। তবে মাঠে নামার আগে ব্যাপারটি মাথায় আনতে চাইছেন মাহমুদউল্লাহ, ‘আমরা মনে হয় না রেটিং ব্যবধান কোনো প্রভাব ফেলবে। আপনি যদি এসব নিয়ে চিন্তা করেন তাহলে ম্যাচে প্রভাব পড়তে পারে। যে কারণে ব্যাপারটি নিয়ে ভাবছি না। আমাদের শেষ দুটি সিরিজের যদি চোখ রাখেন, তাহলে দেখবেন বেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছি আমরা। সেটিরই পুনরাবৃত্তি এখানে করতে চাই আমরা। আশা করি ভালো একটি সিরিজ হবে।’

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছিল ২০১৬ সালে বিশ্বকাপে। যে ম্যাচে হেরেছিল টিম টাইগার্স। সময়ের পরিবর্তে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা এখন সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেটে দারুণ খেলছে। তবে গত এক বছর এ ফরম্যাটে পাকিস্তানিদের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাব্যঞ্জক। যে কারণে নিজের একটু এগিয়ে রাখতেই পারে রাসেল ডমিঙ্গোর শিষ্যরা। কিন্তু অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ তেমনটি মোটেও ভাবছেন না, ‘আমি এটা মোটেও বলতে পারব না আমরা ফেবারিট কি না। কারণ আমরা অনেকদিন পর পাকিস্তানে এসেছি। তারা নিজেদের মাটিতে টি-টোয়েন্টিতে অনেক শক্তিশালী দল। আমি শুধু বলতে পারি, দল নিয়ে আশাবাদী।’

দুই অভিজ্ঞ খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমকে ছাড়ায় এবার পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তারপরও অতিথিদের নিয়ে সতর্ক স্বাগতিকরা। পাকিস্তানের অন্যতম অভিজ্ঞ ক্রিকেটার শোয়েব মালিক মনে করেন, বর্তমান শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ দল বাংলাদেশ, ‘বাংলাদেশকে হারানোর মতো অনেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আমাদের দলে রয়েছে। তবে এখন লাল-সবুজ জার্সিধারীরা অনেক শক্তিশালী দল। গেল কয়েক বছরে তাদের ক্রিকেটীয় কাঠামো শক্ত হয়েছে। খুবই ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়ে আসছে ওরা।’

পাকিস্তান সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে তরুণ দলই পাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে ব্যাপারটি নিয়ে ভাবছেন না মাহমুদউল্লাহ। গেল বিপিএলে আফিফ হোসেন-নাঈম শেখরা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন। যে কারণে দলীয় অধিনায়ক তাদের ওপর আস্থা রাখছেন শতভাগ। তাই ১০ বছর পর পাকিস্তানের মাটি থেকে টি-টোয়েন্টি ট্রফি নিয়ে দেশে ফেরার স্বপ্ন বুনছেন তিনি। 

বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম টি-টোয়েন্টি

শুরু: বেলা ৩টা

ভেন্যু: গাদ্দাফি স্টেডিয়াম, লাহোর

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..