সম্পাদকীয়

নিরাপদ খাদ্য উদ্বুদ্ধকরণ প্রয়াস অব্যাহত থাকুক

বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে জনগণের নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ, বিপণন এবং বিক্রয় প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে সহযোগিতা দেয়া এবং নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার কার্যাবলির সমন্বয় সাধন করা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) কাজ। প্রতিষ্ঠানটি নিরাপদ খাদ্যের মান এবং গুণগত মান নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। কখনও ভেজালবিরোধী অভিযান, কখনও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে বিধিমালাগুলো  প্রণয়নের কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশে ২৫ লাখ ক্ষুদ্র বা অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসায়ী ও ১৮টি মন্ত্রণালয় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া অন্তত ৪৮৬টি প্রতিষ্ঠান খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব প্রতিষ্ঠানের অধীন প্রায় ১২০টি আইন ও নীতিমালা রয়েছে। ক্ষুদ্র বা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাদ্য ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগের পেশাগত জ্ঞান বা প্রশিক্ষণ নেই। খাদ্যাভ্যাস, ধর্মীয় মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট প্রভৃতি বিবেচনায় নিয়ে যেন সবাই সহজে ও সুলভ মূল্যে খাদ্য পেতে পারে, সে জন্য সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

নিরাপদ খাদ্য আইন বাস্তবায়নে বিএফএসএ বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছে। সর্বস্তরে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যত আইন রয়েছে, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সেগুলো কার্যকর করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু আইন করার চেয়ে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা গেলে তা বেশি ফলদায়ক।

স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে যদি মানুষ আইন মেনে চলে, সেক্ষেত্রে কঠোরতা কিংবা শাস্তির বিধান গৌণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ক্ষেত্রে বিএফএসএ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আমরা আশা করতে পারি। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদন ‘জেল-জরিমানা নয়: তদারকি জোরদার করছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’ শীর্ষক প্রতিবেদন পাঠকের মনোযোগ কাড়বে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, খাদ্যপণ্য উৎপাদক, পরিবেশক ও বিক্রেতাদের এখন থেকে হঠাৎ জেল-জরিমানা না করে তাদের মধ্যে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম জোরদার করা হবে। খাদ্যপণ্য উৎপাদনে নিরাপদ খাদ্য আইন ও প্রবিধানমালা যথাযথ অনুসরণের লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিএফএসএ। এ লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে এক ছাতার নিচে আনারও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

খাদ্যপণ্য উৎপাদন, বাজারজাতকারী ও বিক্রেতাসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করছে বিএফএসএ। সবাই দায়িত্বশীল হলে পরীক্ষাগারগুলোর সঠিক ব্যবহার হবে, কাঁচাবাজারগুলো স্বাস্থ্যকরভাবে পরিচালিত হবে। ফলে খাদ্যদ্রব্য সহজে দূষিত বা মানহীন হওয়ার আশঙ্কা কমবে। সচেতনতার মাধ্যমে চাহিদা সৃষ্টি করা গেলে নিরাপদ খাদ্যের বিষয়টি একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেবে। তখন অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে নৈতিকতা, সামাজিক দায়বোধ জাগ্রত হবে। তারা খাদ্যপণ্যে ভেজাল মেশানো থেকে নিবৃত্ত হবে। নীতি-নৈতিকতা মেনে অংশীজনরা এগিয়ে এলে সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা অসম্ভব নয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..