বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: অধিকাংশ সময় সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার উদ্যোগ নিয়ে থাকে। কিন্তু এসব উদ্যোগ একটা সময়ে দ্বিপক্ষীয় দেনদরবারে পরিণত হয়। ফলে একপর্যায়ে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়, বড় বড় করপোরেট গ্রুপ ও আমদানিকরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নানাভাবে বঞ্চিত করছে। আমদানিকারক ও বড় ব্যবসায়ীরা খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর দোষ চাপান এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকারি ব্যবসায়ীদের ওপর দোষ চাপান। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে একটি অসমতা বিরাজ করছে। তাই সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে উৎপাদক, বিশেষ করে খামারি, কৃষক, সরকারের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া কোনোভাবে সফল হওয়া সম্ভব নয়।

চট্টগ্রামের মোটেল সৈকতের সাম্পান হলে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পোলট্রি সেক্টরে সুশাসন প্রকল্পের উদ্যোগে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তারা এ মন্তব্য করেন।

ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে ও ক্যাব বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরীর সঞ্চালনায় কর্মশালায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র রেখা আলম চৌধুরী, নারী নেত্রী ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর রেহেনা বেগম রানু, দেশ টিভির ব্যুরো প্রধান ও কনজ্যুমার রাইটস মিডিয়া ফোরামের সভাপতি আলমগীর সবুজ ও প্র্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাকিয়া খাতুন।

আলোচনায় অংশ নেন ক্যাব মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, ক্যাব পাঁচলাইশ থানার সাধারণ সম্পাদক সেলিম জাহাঙ্গীর, ক্যাব নেতা সেলিম সাজ্জাদ, মাজেদ ভাষানী, পোলট্রি খামারি মোহাম্মদ রফিক, ক্যাব কর্মকর্তা তাজমুন নাহার হামিদ, শম্পা কে নাহার ও জহুরুল ইসলাম। পাঁচলাইশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাকিয়া খাতুন ও ক্যাব চট্টগ্রামের মনিটরিং কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরিফ আহমেদ পোলট্রি উৎপাদনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য করণীয় বিষয় উপলক্ষে অধিবেশন পরিচালনা করেন।

সভায় বলা হয় সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও নিরাপদ খাদ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, উৎপাদক, বিপণনকারী, খুচরা বিক্রেতা ও ভোক্তাদের সমন্বিতভাবে সক্ষমতা উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। অনেক সময় ব্যবসায়ী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর মিলেমিশে সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যবসায়ীরা তাদের স্বার্থে সরকারি প্রশাসন যন্ত্রকে ব্যবহার করে তাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়ে যান। ফলে ভোক্তাদের স্বার্থ ভূলুণ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে এসএম নাজের হোসাইন বলেন, ক্যাব নিরাপদ খাদ্য নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন করলেও এখনও আশানুরূপ পরিবর্তন আসেনি। পোলট্রি খাতে নানা বিভ্রান্তি দূরীকরণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দেশের তিনটি বিভাগে তিনটি উপজেলায় ক্যাব পোলট্রি খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রকল্প পরিচালনা করছে। সরকারের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ভোক্তা অধিদপ্তর, খামারি ও ভোক্তাদের সমন্বিত কর্মপ্রয়াসে পোলট্রিতে অ্যান্টিবায়েটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার, নিরাপদ পোলট্রি খাবার নিশ্চিতকরণ, সুস্থ ও পরিবেশসম্মতভাবে পোলট্রি উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণে খামারি ও ভোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। একই সঙ্গে পোলট্রি সম্পর্কে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য দূরীকরণে ভোক্তাদের মাঝে সঠিক তথ্য পৌঁছানোর মাধ্যমে পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে। উৎপাদক, সরকার ও ভোক্তাদের সমন্বিত এ ধরনের উদ্যোগ সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়া দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সভায় অতিথিরা বলেন, কৃষকের উৎপাদন থেকে ভোক্তার টেবিলে পরিবেশন পর্যন্ত নিরাপদ খাবার নিশ্চিতে করণীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা না হলে নিরাপদ খাদ্যও অনিরাপদ হতে পারে। একজন ক্ষুদ্র খামারিকে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতে মনোযোগী হতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..