মার্কেটওয়াচ

নিরীক্ষকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে

স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন

অনেক দিন ধরেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। এজন্য নিরীক্ষকদের (অডিটর) দোষারোপ করা হয়। আসলে এখানে কোম্পানির পরিচালকদের স্বচ্ছতা ও সুশাসন বজায় রাখতে হবে। নিরীক্ষকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।   

মোহাম্মদ ফোরকান উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ, এফসিএ এবং কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ব্যারিস্টার এএম মাসুম।

মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন বিধান করেছে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। নতুন এ বিধানের ফলে এখন কোনো কোম্পানি শেয়ারের নামে জমা অর্থ বা শেয়ার মানি ডিপোজিট ছয় মাসের বেশি অলস ফেলে রাখতে পারবে না। টাকা নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ওই টাকাকে মূলধনে রূপান্তর করতে হবে। কিন্তু যেসব প্রাপ্ত অর্থ, যা শেয়ার মানি ডিপোজিট বা অন্য কোনো নামে কোম্পানির মূলধন বা ইকুইটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তা কোনোভাবেই প্রত্যাহার বা ফেরত নেওয়া যাবে না। সম্প্রতি এফআরসির পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। কথা হচ্ছে, এটার অন্তর্নিহিত কারণটা কী। ইতোমধ্যে এর কাজ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আর্থিক ও অডিট প্রতিবেদন ভালো করে দেখা। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানির শেয়ার মানি ডিপোজিট রয়েছে। এছাড়া অতালিকাভুক্ত কোম্পানিতেও শেয়ার মানি ডিপোজিট রয়েছে। দেখা গেছে এ শেয়ার মানি ডিপোজিট নিয়ে বাজারে অপব্যবহার হয়েছে। এতে সরকার ও বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্যই এটা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক দিন ধরেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। এজন্য অডিটরদের দোষারোপ করা হয়। আসলে এখানে কোম্পানির পরিচালকদের স্বচ্ছতা ও সুশাসন বজায় রাখতে হবে। অডিটরদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।   

এএম মাসুম বলেন, ২০১৫ সালের ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্টে বলা আছে, যারা কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন অডিট করে, ওই আর্থিক প্রতিবেদনে তাদের স্পষ্টভাবে স্বাক্ষর দেওয়া থাকে, এতে বোঝায় এ প্রতিবেদনে কোনো সমস্যা নেই। আবার ৩৬ ধারায় বলা আছে, যদি অডিটর কোম্পানির কোনো লুকিয়ে রাখা বিষয় জানতে পারে, এক্ষেত্রে অডিটর কোম্পানিকে ৩০ দিনের মধ্যে সংশোধন করার পরামর্শ দিতে পারে। যদি এটা সংশোধন না করা হয় তাহলে এফআরসিকে জানানো যাবে। এরপর ৪৫ ধারায় বলা আছে, যে কোনো সময় যে কোনো কোম্পানির কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন এফআরসি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..