নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করুন

দেশে নিত্যব্যবহার্য পণ্য তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) দাম নিয়ে গ্রাহকসাধারণের ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। সরকার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) দাম সমন্বয় করলেও বেঁধে দেয়া দাম মানছেন না বিক্রেতারা।

প্রাকৃতিক গ্যাসের স্বল্পতায় দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক গ্রাহকদের নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ। যাদের সংযোগ আছে তারাও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পাচ্ছেন না। দৈনন্দিন রান্নায় সাধারণ মানুষ এলপিজিতে নির্ভর করছেন। এ সুযোগে গ্রাহকের কাছ থেকে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ইচ্ছামতো আদায় করছে বেসরকারি কোম্পানিগুলো।

বাজারে নজরদারি না থাকায় বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই মূল্য নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। দেশে আবাসিক পর্যায়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) ব্যবহার বেড়েছে। আবার একসঙ্গে বাসা বা কারখানার নিচে বা পাশে বড় সিলিন্ডার থেকে এলপিজি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সিলিন্ডার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাসায় বাসায় বা কারখানায় সরবরাহ করা হচ্ছে গ্যাস। এটির দামও বিইআরসি পুনর্নির্ধারণ করে। গত ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এলপিজির দাম নির্ধারণ করে কমিশন। সর্বশেষ গত ১০ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে মূল্য সমন্বয় করা হয়। কিন্তু সমন্বিত দাম অনুযায়ী এলপিজি বিক্রি করছে না বিক্রেতারা। মোটকথা, গ্রাহকসাধারণের ভোগান্তির শেষ নেই।

গতকাল শেয়ার বিজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না। এলাকাভেদে দাম নেয়া হচ্ছে এক হাজার ৩৫০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিভিন্ন সময় মূল্য সমন্বয় করে দিলেও তা মানছেন না ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা। ফলে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপি গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা।

বিক্রেতারা বলছেন, তারা বেশি দাম নিচ্ছেন না। সরকারিভাবে যে দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, তা প্রাইভেট কোম্পানির জন্য নয়, ওই দাম শুধু সরকারি কোম্পানির জন্য। তবে সরকারি কোম্পানির জন্য দাম আবার নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানালে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান। বেশি দামে কেনার জন্য দাম কিছুটা বেশি রাখা হচ্ছে বলে দাবি করেন অনেকে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার এলপিজি ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৩৫০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায়। ফলে প্রতি কেজি এলপি গ্যাসের দাম পড়ছে প্রায় ১১৬ টাকা ৬৬ পয়সা। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসির সর্বশেষ নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজি মূসকসহ ১০৪ টাকা ৯২ পয়সা হারে সিলিন্ডার এক হাজার ২৫৯ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা ছিল।

বিইআরসি বলছে, আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সমন্বয় করে কমিশন এলপিজির দাম প্রতি মাসে পুনর্নির্ধারণ করে। কিন্তু সমন্বিত দামে যে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না, তাও তদারকি করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমাদের বিক্রেতারা সুবোধ বালকের মতো অনুগত নয়। নজরদারি না থাকলে তারা সুযোগমতো দাম বাড়িয়ে দেন। তাই দাম নির্ধারণের পাশাপাশি নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। ‘দাম শুধু সরকারি কোম্পানির জন্য’ বলে যারা এলপিজির যথেচ্ছ দাম নিচ্ছেন, তাদের নিবৃত্ত করতে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯১  জন  

সর্বশেষ..