সম্পাদকীয়

নির্ধারিত মূল্যে ভোজ্যতেল বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে

বেশ কয়েকদিন ধরে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। কোনোভাবেই দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছিল না। এমনিতেই কভিডকালে মানুষের আয়-উপার্জন কমেছে। তার ওপর নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে উঠছিল তাদের জন্য। দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবহার কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন অনেকে। এ অবস্থায় মূল্য বেঁধে দেয়ার কথা বলে আসছেন সবাই। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন-সংক্রান্ত সরকারি ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় কমিটি।

খবরে বলা হয়, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল মিলগেটে ১০৭ টাকা, পরিবেশক পর্যায়ে ১১০ টাকা এবং খুচরা মূল্য ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল মিলগেটে ১২৩ টাকা, পরিবেশক পর্যায়ে ১২৭ টাকা এবং খুচরা বিক্রয় মূল্য ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন মিলগেটে ৫৯০ টাকা, পরিবেশক পর্যায়ে ৬১০ টাকা এবং খুচরা বিক্রয় মূল্য ৬৩০ টাকা করা হয়েছে।

নির্ধারিত মূল্যে ভোজ্যতেল বিক্রির উদ্যোগ সফল হোক, এটিই কাম্য। তবে আমাদের দেশে এভাবে অনেক উদ্যোগ নেয়া হয়, পরে নজরদারি না থাকায়  তার সুফল পায় না ভোক্তারা। মূল্য নির্ধারণ একটি ভালো উদ্যোগ, কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু মূল্য নির্ধারণ যদি আদৌ বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে তা করে কী লাভ! এর আগে চাল, আলুর দাম বেঁধে দেয়া হয় এবং তা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেই। অথচ কথা রাখেননি তারা। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছেÑএসব পণ্য। আগামী মাসে পাম ও সয়াবিন তেল উৎপাদনের মৌসুম। ফলে দাম কমে আসতে পারে। পবিত্র রমজানও আসন্ন। তাই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের আন্তরিকতা এবং ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা দরকার।  ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টিসিবি, সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপ থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীদের সংঘবদ্ধ চক্র বাজার অস্থির করতে পারবে না। তখন পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ থাকলে পণ্যের দাম বাড়বে না, যৌক্তিক মূল্যে বিক্রি হবে। মজুতদারি ঠেকাতে অভিযান পরিচালনা করতে হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম সচল রাখতে হবে। হাতেনাতে অসাধু ব্যবসায়ীদের পাকড়াও করা গেলে নগদ অর্থদণ্ড, প্রয়োজনে জেল-জরিমানা করতে হবে। সে ধরনের সমাজবিরোধী কাজে জড়িতদের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো যাতে প্রশ্রয় না দেয়, সে প্রতিশ্রুতিও প্রয়োজন। বাজার পরিচালনা কমিটিকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

নিত্যপণ্যের আপৎকালীন মজুদ বাড়াতে হবে। কম সময়ের মধ্যে তা টিসিবির মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে সরবরাহ করতে হবে। কঠোর বাজার ব্যবস্থাপনা ও সুষ্ঠু নজরদারি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আপৎকালীন মজুদ গড়ে তুলে প্রয়োজনীয় সময়ে ভোক্তাদের কাছে সরবরাহ করার ব্যবস্থা থাকলে ব্যবসায়ীরাও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..