প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে অনেক পিছিয়ে সরকার

সিপিডি’র সংলাপে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে উদাসীন। তারা নির্বাচনের আগে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে। কিন্তু ইশতেহারের সেসব ঘোষণা খুব বেশি বাস্তবায়ন হতে দেখা যায় না। যদিও নির্বাচনী ইশতেহারের আইনি কোনো কাঠামো নেই। তারপরও এটিতে মূল্যায়ন ও জবাবদিহিতা থাকা দরকার। বর্তমানে সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালে যে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছিল, তার মধ্যে শিক্ষা, মানসম্মত কর্মসংস্থান ও জেন্ডার সমতা অর্জনে সরকার অনেকখানি পিছিয়ে আছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও খাতসংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল জাতিসংঘ ডেমোক্রেসি ফান্ডের (ইউএনডিইএফ) বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সংগঠন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত জাতীয় উন্নয়নে অঙ্গীকার: শিক্ষা, মানসম্মত কর্মসংস্থান, জেন্ডার সমতা শীর্ষক দিনব্যাপী সংলাপে বক্তাবা এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

নাগরিক সংলাপের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে ইশতেহার ঘোষণা করে থাকে। এসব ইশতেহারের যদিও আইনি কোনো কাঠামো নেই, তারপরও এটিতে মূল্যায়ন ও জবাবদিহিতা থাকা দরকার। কেননা রাজনৈতিক দলগুলো মূলত ইশতেহার দিয়েই ভোট সংগ্রহ করে। সে জন্য এটিকে অবশ্যই আইনি ভিত্তি দেয়া প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি ইশতেহার প্রকাশ করেছিল। সেখানে ৪টি মাইলফলক নির্ধারণ করা হয়। এগুলো হলোÑ ২০২১ সালের আগেই মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জন, ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশের মর্যাদা লাভ ও ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা’ তথা ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নে অগ্রসর হওয়া। এছাড়া ৩৩টি খাতে জোর দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আমরা দেখলাম, তারা যে ইশতেহার দিয়েছিল তার মধ্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জেন্ডার সমতা অর্জনে সরকার অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় শাসন বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহার বিষয়ে এক বছর আগে থেকে আলোচনা করতে হবে। নির্বাচনী ইশতেহারের লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ। দেশে যদি সত্যিকারের নির্বাচন হতো, তাহলে দলগুলো তাদের ইশতেহারের দিকে গুরুত্ব দিত। শোভন কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, কোথায় এখন শোভন কর্মসংস্থান আছে? সরকারি কিছু ক্ষেত্রে শোভন কর্মসংস্থান আছে। কিন্তু বেসরকারি খাতে তা নেই বললেই চলে। শিক্ষায়ও আমাদের সংকট প্রকট। বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে। এ সময় তিনি সরকারকে ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়ে চলমান সংকট নিরসনের আহ্বান জানান।

এ সময় সিপিডির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য খুশি কবীর বলেন, ‘আজকের এ অলোচনার মাধ্যমে জবাবদিহিতার একটি সংস্কৃতি শুরু হয়ে গেছে। গণতন্ত্র থাকলে জবাবদিহিতার সুযোগ থাকে। আর গণতন্ত্র থাকলে উন্নয়ন ফিরে আসে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে হবে। জবাব দেয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। সর্বোপরি ভিন্নমতকে প্রাধান্য দিতে হবে।’ এ সময় তিনি বাংলাদেশের শিক্ষায় অনেক ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী  বলেন, আমাদের দক্ষতার অনেক ঘাটতি রয়েছে। গত ১৪ বছরে সরকারের সুনির্দিষ্ট ক্ষমতাবিষয়ক কোনো প্রকল্প ছিল না। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখেন আগেও প্রবাসী শ্রমিকরা যা আয় করতেন, এখনও তাই আয় করছেন। কারণ তাদের শ্রমের দক্ষতা বাড়েনি। তিনি আরও বলেন, এখানে শোভন কর্মসংস্থানের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখছি সরকারি অনেক দপ্তরে এখনও অনেক অশোভন কর্মসংস্থান বিদ্যমান। তারা দৈনিক মজুরি হিসেবে কাজ করেন। তারা অস্থায়ী হওয়ায় তাদের কোনো ভাতা নেই। সরকারই তো এখানে অশোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।