বিশ্ব সংবাদ

নির্বাচনী কর্মকর্তার মন্তব্য সহিংসতায় উসকানি দিচ্ছেন ট্রাম্প

শেয়ার বিজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সহিংসতায় প্ররোচনা দিচ্ছেন। দেশটির জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী কর্মকর্তা গ্যাব্রিয়েল স্টার্লিং গত মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে জালিয়াতি নিয়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট যে প্রমাণহীন অভিযোগ করছেন, তার জেরে কোনো সহিংসতা হলে তার দায় ট্রাম্পকে নিতে হবে। খবর: রয়টার্স।

জর্জিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেটের ভোট ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন ব্যবস্থাপক গ্যাব্রিয়েল। তিনি একজন রিপাবলিকান। গ্যাব্রিয়েল বলেন, অনেক হয়েছে। এটা থামাতে হবে।

ট্রাম্প শিবিরের অনুরোধে জর্জিয়ায় দ্বিতীয় দফায় ভোট পুনর্গণনা করা হচ্ছে। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তবে এখানে ট্রাম্পের সঙ্গে বাইডেনের ভোট ব্যবধান অল্প।

ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের মুখপাত্র টিম মুর্তোফ বলেছেন, ‘সব বৈধ ভোট গণনা করা ও অবৈধ ভোট গণনা না করার বিষয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন তারা।’ তিনি বলেন, হুমকি বা সহিংসতায় কারও জড়িত হওয়া উচিত নয়। তেমনটা হলে তারা তার নিন্দা জানান।

জর্জিয়ার নির্বাচনী কর্মকর্তা গ্যাব্রিয়েল জানান, অঙ্গরাজ্যের ২০ বছর বয়সি এক ঠিকাদার হত্যার হুমকি পেয়েছেন। তার পরিবার হয়রানির শিকার হচ্ছে। এমনকি নিজের বাড়ির বাইরে পুলিশের পাহারা রয়েছে বলে জানান তিনি। গ্যাব্রিয়েল বলেন, জর্জিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেটের স্ত্রী ফোনে যৌন হয়রানিমূলক হুমকি পাচ্ছেন। তারা ভাষায়‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট, এ ঘটনাগুলো বা ভাষার ব্যাপারে আপনি নিন্দা জানাননি।’ রিপাবলিকান সিনেটররাও এ ব্যাপারে নিন্দা জানাননি বলে উল্লেখ করেন গ্যাব্রিয়েল। তিনি বলেন, ‘আমাদের এগুলো বন্ধ করা দরকার।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার বলেছেন, ২০২০ সালের যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে জালিয়াতির যে অভিযোগ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করেছেন, তার সমর্থনে কোনো প্রমাণ তার বিচার বিভাগ খুঁজে পায়নি। এক বিবৃতিতে প্রধান আইন প্রয়োগকারী এই কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা এমন কোনো জালিয়াতির প্রমাণ দেখতে পাইনি যা নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দিতে পারে।

পরাজয় স্বীকার না করা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য তার এই অবস্থানকে বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ একদিকে যখন জো বাইডেনের বিজয়ের ফলাফলের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে, একই সময়ে পরাজিত হওয়া রাজ্যগুলোয় একের পর এক মামলা করে চলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবির।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে জো বাইডেন পেয়েছেন ৩০৬টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ২৩২টি। আর জনগণের ভোটে ট্রাম্পের চেয়ে ৬২ লাখ ভোট বেশি পেয়েছেন বাইডেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..