প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নির্বাচন সুষ্ঠু করার দায়িত্ব শুধু কমিশনের নয়: এটিএম শামসুল হুদা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিবেশ মেনে নিয়েই বর্জনের সংস্কৃতি পরিহার করে রাজনৈতিক দলকে আগামী নির্বাচনে আসতে হবে বলে মনে করেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এটিএম শামসুল হুদা। নির্বাচন সুষ্ঠু করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের একার বিষয় নয়। এখানে রাজনৈতিক দলেরও বিরাট দায়িত্ব রয়েছে। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘সজাগ’ থাকার তাগিদ দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সংলাপ শেষে এ কথা বলেন সাবেক এ সিইসি।

সংলাপে সাবেক সিইসি, নির্বাচন কমিশনার, সাবেক সচিবসহ ১৬ জন বিশেষজ্ঞ বৈঠকে অংশ নেন। সিইসি কেএম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্টরাও উপস্থিত ছিলেন।

সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানকে কমিশনের চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে সাবেক এ সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশনের চ্যালেঞ্জ হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের। নির্বাচন কমিশনের এখন থেকে এক বছরের মধ্যে এমন কিছু করা যাবে না তাতে আস্থা বিনষ্ট হয়। কমিশনের প্রতি আস্থা তো হয়েই গেছে, এটাকে ধারণ করতে হবে। দরকার হলে আরও পরিবর্ধন করতে হবে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এটিএম শামসুল হুদা বলেন, প্রতিবারই নির্বাচন এলেই আমরা কিছু কিছু এটা করি, ওটা করি। ছোট ছোট পদক্ষেপে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হবে না। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে কার্যকরী করতে দীর্ঘ মেয়াদে চিন্তা করতে হবে। এজন্য কমিশনের নিজেকেই অনেক শক্তিশালী করতে হবে। আইন ও বিধিবিধানের পরিবর্তন ও সংশোধন সম্পর্কে তিনি বলেন, আইন যেগুলো আছে এগুলোকে অভিজ্ঞতার আলোকে নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত এবং তাদের এখতিয়ারের বাইরেরগুলো বাছাই করে করণীয় ঠিক করতে হবে।

বর্তমান সময়ের মধ্যে বিদ্যমান সংবিধানের বাইরে গিয়ে ভোট সম্ভব নয় মন্তব্য করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষÑএটা তো সংবিধান সংশোধনের বিষয়। তত্তাবধায়ক সরকার যে হবে না, এটার একটা সংশোধনী ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। এর পিঠাপিঠি এই টাইম ফ্রেমের মধ্যে যদি অন্য কিছু করতে হয়, তা পারা যাবে না। আর নির্বাচন কমিশন এটা করতে পারবে না। এটা রাজনৈতিক বিষয়।

সাবেক কমিশনার ছহুল হোসাইন মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সংলাপ অনুষ্ঠানের উদ্যোগ ইসি নিতে পারেন। তিনি বলেন, দলগুলোর মধ্যে যে গ্যাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা মিটিয়ে সবাইকে নির্বাচনে আনতে একটি উদ্যোগ কমিশন নিতে পারে। কারণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা তাদের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, আমরা পরামর্শ দিয়েছি কমিশন যেন শক্তভাবে তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে। নির্বাচনে যারা দায়িত্ব পালন করবেন তাদের নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

সাবেক সিইসি আব্দুর রউফ তার প্রস্তাবে স্থায়ী ভোটকেন্দ্র স্থাপনের কথা বলেন। এক্ষেত্রে তিনি প্রতি ৫০০ ভোটের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের কথা বলেন।

সাবেক কমিশনার শাহ নেওয়াজ তার প্রস্তাবে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের দিয়ে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন।