সম্পাদকীয়

নির্মাণকাজে গৃহীত হোক সর্বোচ্চ নিরাপত্তা

চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই ভবন নির্মাণের কারণে প্রায়ই রড, ইট, বাঁশসহ অন্য নির্মাণসামগ্রী পথচারীদের ওপর পড়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার নগরীর কোতোয়ালি থানার একটি টিনের ছাউনির কাঁচাঘরের ওপর পাশের নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের নির্মাণসামগ্রী পড়ে আহত হয়েছেন চারজন। ২০১৪ সালের মে থেকে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরীতে এ ধরনের দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী ভবন বা অন্য স্থাপনা নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও প্রায়ই তা অনুসরণ করেন না ভবন মালিক বা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এ বিধিমালা অনুসারে, ফুটপাত সংলগ্ন কোনো ভবন নির্মাণের সময় ভবন মালিককে ওই স্থানে অস্থায়ী ঘের, জীবনরক্ষাকারী শিল্ড ও চলাচলের বিকল্প পথ তৈরি করে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়। নির্মাণাধীন ভবন থেকে নির্মাণসামগ্রী পড়ে কেউ নিহত হলে ভবন মালিকের ৭ বছর কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে। দুঃখজনক হলো, এ ধরনের ঘটনায় শাস্তি প্রদানের তেমন নজির নেই। নির্মাণকাজ চলাকালীন বড় কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কেউই পথচারী, আশপাশের বাসিন্দা, এমনকি নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তায় তেমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন, এসব ক্ষেত্রে যথেষ্ট সচেতনতা ও সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। চট্টগ্রামে এসব বিষয় তদারকির দায়িত্ব চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ)। সংস্থাটিও নিয়মিত বিষয়গুলো নজরদারি করে না বলে অভিযোগ করছেন অনেকে। খোদ সিডিএ’র নির্মাণাধীন ভবন থেকেও লোহার রড ছিটকে পড়ে পাশের বাজারের ছাউনি ভেদ করে এক নারীর হাতে গেঁথে যায় ২০১৫ সালে।

গত ১৩ মার্চ রাজধানীর মালিবাগে উড়ালসড়কের গার্ডার পড়ে নিহত হয়েছেন সেটিরই এক নির্মাণশ্রমিক। আহত হয়েছেন একজন প্রকৌশলী ও একজন পথচারী। ২০১২ সালে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট জংশনে নির্মাণাধীন উড়ালসড়কের গার্ডার ভেঙেও নিহত হয়েছিলেন অন্তত ১৩ জন। তবুও বিষয়গুলো যেন থামছে না। শুধু নির্মাণসামগ্রী নয়, নির্মাণাধীন ভবনের অংশবিশেষ ভেঙে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটার নজিরও আছে। পুরকৌশলীদের মতে, অনেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ভবন বা স্থাপনা নির্মাণ করেন। যারা অনুমতি নিয়ে নির্মাণকাজ করেন, তারাও সব ক্ষেত্রে ইমারত বিধিমালা মেনে চলেন না। আর দুর্ঘটনা ঘটলেও দোষীরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়।

কোনো ধরনের দুর্ঘটনাই আমাদের কাম্য নয়। নির্মাণ সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনা রোধে নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে জমি বা ভবনমালিক সবাইকেই হতে হবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ভবন নির্মাণে চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির কোনো বিকল্প নেই। যারা ইমারত বিধিমালা মানবেন না, তাদের প্রতি কর্তৃপক্ষকেও হতে হবে কঠোর। দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতিগ্রস্তরা যেন বিচার পান, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম নয়, দেশের কোথাও যেন এ ধরনের দুর্ঘটনা আর না ঘটে, সে প্রত্যাশাই থাকবে আমাদের।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..