সারা বাংলা

নির্মাণের ছয় বছরেই ঝুঁকিপূর্ণ রাতারগুল ওয়াচটাওয়ার

রেজাউল হক, সিলেট: পরিবেশকর্মীদের আপত্তি উপেক্ষা করে ২০১৪ সালে সিলেটের গোয়ানাইঘাট উপজেলার জলারবন রাতারগুলে ওয়াচটাওয়ার নির্মাণ করেছিল বনবিভাগ। দর্শনার্থীদের এক জায়গায় দাঁড়িয়ে পুরো বন দেখার সুবিধার্থে এ টাওয়ার নির্মাণ করার কথা সে সময় জানিয়েছিলেন বনের কর্মকর্তারা।

তবে নির্মাণের ছয় বছরের মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বনের ভেতরে নির্মিত এই টাওয়ারটি। এই টাওয়ারকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে দর্শনার্থীদের উঠতে নিষেধাজ্ঞা জারি করছে বন বিভাগ। নিষেধাজ্ঞা জারি করে সাইনবোর্ড টানানো হবে বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

সিলেট বন বিভাগের সারি রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার সাদ উদ্দিন বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই ওয়াচটাওয়ারটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। আমরা এরই মধ্যে একসঙ্গে চার-পাঁচজনের বেশি দর্শনার্থী এ টাওয়ারে না ওঠার নির্দেশনা দিয়ে সাইনবোর্ড টানিয়েছি, কিন্তু কেউ মানছেন না। একসঙ্গে শত শত মানুষও টাওয়ারে উঠে পড়েন। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি রয়েছে। তাই আমরা এই টাওয়ারে দর্শনার্থী ওঠা আপাতত নিষিদ্ধ করছি। এ-সংক্রান্ত সাইনবোর্ড টানানো হবে। পরে প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে এই টাওয়ারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

টাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ স্বীকার করে কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, এক পলকে পুরো জলারবন দেখার লোভ সামলানো দায়। তাই ঝুঁকি নিয়েই উঠছি।

জানা যায়, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের রাতারগুল জলারবনকে ১৯৭৩ সালে সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে বন বিভাগ। নদী ও হাওরবেষ্টিত ৫০৪ দশমিক ৫০ একর আয়তনের পুরো এলাকা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয় জায়গা।

২০১৪ বনের ভেতরে ৫০ ফুট উঁচু ওয়াচটাওয়ার নির্মাণ করে বন বিভাগ। ৯০ লাখ ৬২ হাজার টাকা ব্যয়ে এই টাওয়ারের নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই পরিবেশকর্মীরা আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। টাওয়ারের কারণে বনের ভেতরে পর্যটকদের সমাগম বাড়বে এবং এতে বনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নষ্ট হবে বলে সে সময় জানিয়েছিলেন তারা।

পরিবেশকর্মীদের আপত্তিতে দুদফা টাওয়ারের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখলেও পরে তা সম্পন্ন করে পর্যটকদের জন্য উš§ুক্ত করে দেওয়া হয়। এর পর থেকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক ওয়াচটাওয়ারে উঠে রাতারগুল বন দেখতে জড়ো হন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..