বাণিজ্য সংবাদ

নিলামযোগ্য কনটেইনার ছয় হাজারের অধিক

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: দেশের আমদানি ও রফতানির প্রধান গেটওয়ে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর। বন্দরটি দিয়ে আমদানিকৃত মোট ছয় হাজার ২৮৭টি কনটেইনার দীর্ঘদিন ধরে খালাস হয়নি। এসব কনটেইনারের পণ্য নিময় অনুসারে নিলামে বিক্রয় কিংবা ধ্বংস করার দায়িত্ব চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। কিন্তু এ কাজে প্রতিবারই ব্যর্থ হয় কাস্টম হাউস। এতে একদিকে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে প্রায় হাজার কোটি টাকা। অপরদিকে বন্দর পরিচালন কার্যক্রম নিয়মিত ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বন্দর ব্যবহারকারীদের।
যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে, পণ্যের মূল্য কমে যাওয়া, আমদানির সপক্ষে দলিলাদি উপস্থাপন করতে না পারা অথবা পণ্য খালাসের ক্লিয়ারেন্স পারমিট না পাওয়ার কারণে পণ্য খালাস দেরি হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিবহন শাখার তথ্যমতে, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত চট্টগ্রামের অকশন ইয়ার্ডে নিলামযোগ্য মোট ছয় হাজার ২৮১টি কনটেইনার আছে। এ ইয়ার্ডে চলতি বছরের ১ এপ্রিলে ছিল পাঁচ হাজার ৪৪১টি। যেখানে ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারিতে ছিল চার হাজার ৬০টি কনটেইনার। ফলে দিন দিন বাড়ছে নিলামযোগ্য কনটেনারের সংখ্যা। অর্থাৎ বিভিন্ন সময়ে আমদানিকৃত কনটেইনার ভর্তি পণ্য খালাস না নেওয়ায় প্রতি বছর বাড়ছে নিলামযোগ্য কনটেইনারের স্তূপ।
অপরদিকে বন্দরের অভ্যন্তরে কনটেইনার রাখার সক্ষমতা আছে ২০ ফুট দীর্ঘ হিসেবে প্রায় ৪৯ হাজার টিইইউ’স। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ছয় হাজার ২৮৭টি কনটেইনার পড়ে থাকায় নতুন করে কনটেইনার রাখায় বেগ পোহাতে হচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষকে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কারশেডে নিলামযোগ্য গাড়ি পড়ে আছে ৩৭১টি। এতে বন্দরের পরিচালন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট হারের আয় (চার্জ) বঞ্চিত হচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বন্দর ব্যবহারকারীদের।
বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নিলামযোগ্য পণ্য ও কনটেইনার অনেক দিনের পুরোনো সমস্যা। আর বছরে পর বছর সেটা শুধু বাড়ছে। এখানে ২৫ বছর আগে আমদানি করা পণ্যও পড়ে আছে নিলামের অপেক্ষা। এ নিয়ে চিঠি চালাচালিও কম হয়নি কাস্টম হাউসের সঙ্গে। গত ৭ বছরে ৬৫টি চিঠি দেওয়া হয়েছে কাস্টম হাউসকে। তারপরও গতি নেই নিলাম কার্যক্রমে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক অপারেশনাল কার্যক্রমকে ব্যাহত হচ্ছে চরমভাবে।
খালাসের অপেক্ষায় থাকা এবং নিলামযোগ্য পণ্য বিষয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা বলেন, দেশে পণ্যের মূল্য কমে যাওয়া, আমদানির সপক্ষে মূল দলিলাদি উপস্থাপন করতে না পারা, অনিয়ম ধরা পড়ার পর আমদানিকারক কর্তৃক জরিমানা দিতে অস্বীকৃতি জানানো অথবা পণ্য খালাসের ক্লিয়ারেন্স পারমিট (সিপি) না পাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে এসব পণ্য খালাস নেননি আমদানিকারকরা। আর সবচেয়ে বেশি নিলামযোগ্য পণ্য রয়েছে কনটেইনার ভর্তি পণ্য এবং বিভিন্ন ধরনের গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ।
বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, আমদানির পর সাধারণত আমদানিকৃত পণ্য জাহাজ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে নামানোর ৩০ দিনের মধ্যে খালাস না নিলে বন্দর কর্তৃপক্ষ চালানের যাবতীয় নথি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে আমদানিকারককে পণ্য খালাসের জন্য ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে চিঠি দেয় কাস্টমস। এ সময়ের মধ্যে পণ্য খালাসের ব্যাপারে আমদানিকারক সাড়া না দিলে নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমস তা নিলামে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। এক্ষেত্রে কাস্টমস অ্যাক্ট ১৯৬৯-এর ধারা ৮২ মোতাবেক নির্দিষ্ট সময়ে অখালাসযোগ্য পণ্য নিলামে বিক্রয় কিংবা নষ্ট করার উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম কাস্টমস। তা না হলে বছরের পর সাড়ে ছয় হাজার কনটেইনার কীভাবে পড়ে থাকে? কার স্বার্থ রক্ষায় চট্টগ্রাম কাস্টমস ভূমিকা পালন করছে! নাকি নিলাম প্রক্রিয়া আয়োজনে উদাসীনতা আছে কাস্টমস হাউসে। এক্ষেত্রে দুদক তদন্ত করতে পারে। দ্রুত নিলামযোগ্য পণ্য নিলাম করলে সরকারের রাজস্ব আহরণ নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক শেয়ার বিজকে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে কনটেইনার খালাস করেনি এমন কনটেইনার বন্দরের আছে ছয় হাজারের অধিক। যা কোনো সময় বাড়ে, আবার কোনো সময় কমে। তবে নিলামাযোগ্য কনটেইনার দ্রুত নিলাম করার জন্য আমরা (বন্দর কর্তৃপক্ষ) প্রতি মাসে তালিকাসহ চিঠি প্রেরণ করি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে। তিনি বলেন, এসব নিলামযোগ্য কনটেইনার সারানো হলে অবশ্যই বন্দরের পরিচালন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। কারণ ছয় হাজারেরও বেশি নিলামযোগ্য কনটেইনার অনেক স্পেস দখল করে আছে। পাশাপাশি এসব কনটেইনারের ভাড়াসহ অন্যান্য চার্জ থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।
নিয়মানুসারে দীর্ঘদিন ধরে অখালাসকৃত পণ্যের নিলাম না হওয়ার বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার ফখরুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি। ফলে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ..