Print Date & Time : 3 December 2020 Thursday 4:44 am

নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব সিলেট

প্রকাশ: October 2, 2020 সময়- 02:33 am

প্রতিনিধি, সিলেট: সরকারিভাবে পলিথিন বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও সিলেটে এ নিয়ম কেউই মানছেন না। ক্রেতা-বিক্রেতা ও ব্যবহারকারী সবাই যেন পরিবেশরক্ষাকারী এ আইনের প্রতি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলেছেন। ফলে পলিথিনের ব্যবহার বেড়েই চলেছে।

সরেজমিনে নগরীর আম্বরখানা, খাসদবীর, চৌকিদেখি, শাহী ঈদগাহ, টিলাগড়, শিবগঞ্জ, মিরাবাজার, কাজিরবাজার, রিকাবিবাজার, মদিনা মার্কেট, পাঠানটুলা, কালীঘাট, বন্দরবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার দেখা গেছে। নগরীর পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায়ও অবাধে পলিথিন ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

নগরীর কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কাগজ, নেট ও পাটের ব্যাগের তুলনায় পলিথিন সস্তা। এ কারণে অনেকেই ঝুঁকছেন পলিথিনের দিকে। তারা মাছ, তরকারিসহ যাবতীয় পণ্যসামগ্রী বিক্রিতে পলিথিন ব্যবহার করে চলেছেন। অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা লাভের জন্য পরিবেশের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর এই পলিথিন ব্যাগ প্রকাশ্যে বিক্রি করলেও প্রশাসন এক্ষেত্রে নির্বিকার বলে পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন।

নগরীর লালবাজার বাজারের মাছ বিক্রেতারা জানান, মাছ কেনার সময় বেশিরভাগ ক্রেতা সঙ্গে কোনো কিছু আনেন না। ফলে বাধ্য হয়ে পলিথিন দিতে হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের বিভাগীয় পরিচালক মো. এমরান হোসেন বলেন, তিনি সিলেটে যোগদানের পর সিলেটে চারটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আদায় ও প্রায় ২৫ মেট্রিক টন পলিথিন জব্দ করা হয়। পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে বলে উল্লেখ করে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে সবার আগে মানুষের সচেতনতা জরুরি বলে জানান তিনি।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পলিথিনের ব্যবহার বন্ধের জন্য মানুষকে সচেতন করা এবং স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে সভা-সেমিনার আয়োজন করতে হবে। এছাড়া নিয়মিত মোবাইল কোর্টের অভিযান এবং পলিথিন বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সিলেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী দিলওয়ার হোসেন বলেন, পলিথিন ব্যবহারের পর সেগুলো যেখানে-সেখানে ফেলে দেওয়া হয়। তা পরে নগরীর খাল বা ড্রেনে পড়ে। ফলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। পলিথিন বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, মানুষকে সচেতন করা ও বিক্রেতা পর্যায়ে অভিযান বাড়ালে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার কমে আসবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১৫ সালের জুলাই থেকে এ বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত চার হাজার ৭৮৭টি মামলা দিয়েছেন। এসব মামলায় আটজনকে দণ্ড এবং পাঁচ কোটি ৩৪ লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অভিযানগুলোয় ৮৪২ টন পলিথিন জব্দ করা হয়। তবে এত অভিযানের পরেও পলিথিন ব্যবহার কমেনি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পলিথিনের ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে ২০০২ সালে দেশে প্রথম পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়। সে সময় বিকল্প হিসেবে কাগজের ঠোঙা ব্যবহার বেড়েছিল, তবে থামেনি পলিথিনের ব্যবহার। ২০১০ সালে সরকার বাজারে পলিথিন থামাতে আবারও উদ্যোগ নেয়। ১৭টি পণ্যের মোড়ক হিসেবে প্লাস্টিক বা পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। এ জন্য অভিযানও পরিচালনা করা হয়। তবু অগ্রগতি হয়নি।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশে প্রতিদিন কী পরিমাণে পলিথিন উৎপাদন, ব্যবহার বা বর্জ্য হিসেবে জমা হয়, এ নিয়ে সরকারি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা হিসাব নেই। তবে বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (বাপা) এক পরিসংখ্যান বলছে, শুধু ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি পলিথিন ব্যাগ জমা হয়।