সারা বাংলা

নিষেধাজ্ঞা মেনে উপকূলে ফিরছেন জেলেরা

ইলিশ প্রজনন মৌসুম

সংবাদদাতা, পাথরঘাটা (বরগুনা): মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আজ ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে। এ সময় বঙ্গোপসাগর ও নদ-নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। মা ইলিশ যাতে নির্বিঘেœ ডিম ছাড়তে পারে এ জন্য সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে জেলেরা তাদের ট্রলার নিয়ে উপকূলে ফিরতে শুরু করেছেন। ইলিশের এ প্রজনন মৌসুমে সমুদ্রসীমায় ভারতীয় জেলেরা যাতে ইলিশ ধরতে না পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন মৎস্যজীবীরা।
জানা গেছে, প্রতি বছর আশ্বিন মাসের এ সময় গভীর সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ উপকূলের দিকে এসে ডিম ছাড়ে। কয়েক বছর ধরে প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকায় ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। এর সুফল জেলে থেকে ইলিশ ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই পাচ্ছেন। উপকূলীয় এলাকা পাথরঘাটায় প্রায় ২২ হাজার জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে সমুদ্রগামী জেলে ১৪ হাজার ২৯০ জন। বাকিরা নদীতে মাছ শিকার করেন।
মৎস্য অধিদফতর জানায়, মাছ রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধি (অ্যান্ড কনজারভেশন ফিস রুলস, ১৯৮৫) অনুযায়ী প্রতি বছর আশ্বিনী পূর্ণিমার সময় ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ থাকে। প্রটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন ফিস রুলস ২০১৬ সালে সংশোধন করে ইলিশ শিকার নিষিদ্ধের সময় বাড়িয়ে ২২ দিন করা হয়। সে অনুযায়ী আগামী ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর ইলিশের প্রজনন মৌসুম। এ মৌসুমে ৬০ শতাংশের বেশি মা ইলিশ ডিম ছাড়ে। প্রজনন নিরাপদ করতে এ নিষেধাজ্ঞা শুরুর মধ্যদিয়ে এ বছর রুপালি ইলিশের ভরা মৌসুম শেষ হবে। ইলিশের নিরাপদ প্রজননের জন্য ৯ অক্টোবরের আগে সাগর ও মোহনায় মাছ ধরায় নিয়োজিত সব নৌযান ও জেলেকে নিজ নিজ ঘাটে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাকালীন জেলেরা নদীতে নামলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দেখা যায়, সাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়া উপজেলার বেশিরভাগ জেলে তাদের ট্রলার নিয়ে ঘাটে ফিরেছেন। অন্যরাও সাগর থেকে ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা করেছেন। মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে নোঙ্গর করে আছে জেলেদের কয়েক শতাধিক ট্রলার। এ সময় জেলেদের সঙ্গে কথা বললে তারা অভিযোগ করেন, সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে তারা ইলিশ শিকার বন্ধ করলেও ভারতীয় জেলেরা বড় ট্রলার নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ জলসীমায় ঢুকে ইলিশ শিকার করে। এগুলো বন্ধ করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার জানান, মা ইলিশ যাতে নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারে সেজন্য ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত নদী ও সাগরে ইলিশ শিকার, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ আইন বাস্তবায়নে মৎস্য অধিদফতর, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং স্থানীয় মৎস্য দফতরের উদ্যোগে ব্যাপকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চলবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ও জেলেদের উপকারের স্বার্থেই সরকারের এ আইন। আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই জেলেদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এ আইন অমান্যকারীরা এক থেকে সর্বোচ্চ দুবছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

সর্বশেষ..