প্রচ্ছদ শেষ পাতা

নিষ্ক্রিয়-অনিয়মের অভিযোগে স্থগিত ৮৪ লাইসেন্স, বাতিল ছয়টি

চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট

রহমত রহমান: রফতানিকে উৎসাহ দিতে সরকার বন্ড লাইসেন্স দিয়েছে। কিন্তু কাঁচামাল আমদানি করে তা খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ ধরনের সুর্নিদিষ্ট অভিযোগ উঠলে কৌশল হিসেবে দীর্ঘদিন আমদানি বন্ধ করে রাখা হয়। আবার পণ্য আমদানি করলেও বছরের পর বছর অডিট করা হচ্ছে না। বন্ড লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। মাত্র আড়াই মাসে ৮৪টি প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্স স্থগিত (সাসপেন্ড) ও ছয়টির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া যাচাই শেষে আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত ও বাতিলের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের আওতায় আটটি খাতে এক হাজার ৪৫০ প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্স রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪৫ প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও এক হাজার পাঁচটি চালু রয়েছে। শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি করা হলেও কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়মানুযায়ী অডিট রিপোর্ট জমা দিচ্ছে না। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান পণ্য আমদানি করে অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর আর আমদানি করছে না। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নিষ্ক্রিয়, বন্ধ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানের তালিকা করে চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেট। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৯০ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় ছয়টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
লাইসেন্স স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: নিড ড্রেসেস প্রাইভেট লিমিটেড, সামস ডি অ্যাপারেলস লিমিটেড, কার্নিভাল ফ্যাশন, বেনিলাক্স জিন্স, গ্লোবাল স্পেশালাইজড গার্মেন্টস, প্রাইম ফ্যাশন, শ্যারন চৌধুরী অ্যাপারেলস, আল্লামা ফ্যাশন, আরএল ডেনিম, নূপুর অ্যাপারেলস, ভেনগার্ড ফ্যাশন, ইউনিটি ইন্ডাস্ট্রিজ, লিংক এক্সেসরিজ, এসওএস আউট ফিটার্স, ডেইনিম টেক্সটাইল, এশিয়ান ড্রেসেস, স্পেসিও অ্যাপারেলস, আর কে এক্সেসরিজ, ইউনাইটেড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রিমিয়াম নিটিং অ্যান্ড ট্রেনিং, মাইলস ফেব্রিকস, এএম প্যাকেজিং অ্যান্ড এক্সেসরিজ, সামোতাফ অ্যাপারেলস, কম্বাইন্ড টেক্সওয়্যার, সায়মা অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রিজ, মার্চেন্টস হাউস, অ্যাম্পল ফ্যাশন, হেমটেক অ্যাপারেলস, ক্রাউন অ্যাপারেলস, ডিএম গার্মেন্টস, প্রো প্যাকেজিং, বদর বক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, ইমাম গার্মেন্টস, সৈয়দ নিটওয়্যার, এএসএম অ্যাপারেলস, সাননিট টেক্সটাইলস, এ ফোর বি ওয়্যারস, হোলি গার্মেন্টস অ্যান্ড এক্সেসরিজ, ফেয়ার মন্ড নিটিং, ফরিদা ফ্যাশন সোয়েটার্স, এইচইউ ফ্যাশন, সামরোজ গার্মেন্টস, সী-শোর অ্যাপারেলস, ছা-মিম ফ্যাশন, এএস সোয়েটার্স, ক্রিসল্যান সোয়েটার, ফিটওয়েল সোয়েটার, ফ্যাশন পার্ক ইন্টারন্যাশনাল, সার্ক গার্মেন্টস এক্সেসরিজ, ফোর সার্কেল ফ্যাশন, সিল্কওয়ে ফ্যাশন, এমআরএফ ফ্যাশন, জাফস পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং, অ্যারিস অ্যাপারেলস, রানিং ফ্যাশনওয়্যার, নিট ফ্যাশন, কেন্ট গার্মেন্টস, ট্রেড স্কেন ফ্যাশনওয়্যার, ইমাম ইন্ডাস্ট্রিজ, আনোয়ারা অ্যাপারেলস, কেজেডএম অ্যাপারেলস, সেইন্ট গার্মেন্টস, মিডিয়া টেক্সটাইল, এএসআর অ্যাপারেলস, পোর্টল্যান্ড টেক্সটাইল, মোডিস্ট লিমিটেড, মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডায়িং (সিইপিজেড), কিমটেক্স লিমিটেড, মোনাবি টেক্সটাইল কমপ্লেক্স, গানচিল ইন্ডাস্ট্রিজ, ইমন অ্যাপারেলস, সাদমান ইন্ডাস্ট্রিজ, মোহাম্মদী ইন্টারন্যাশনাল, সেঞ্চুরি সোয়েটার, মার্ক ফ্যাশন ওয়্যার, এনজা টেক্সটাইল, কেএসএস এন্টারপ্রাইজ, মুন অ্যাপারেলস, নিড ফ্যাশন ওয়্যার অ্যান্ড টেক্সটাইল, গ্লোবাল অ্যাপারেলস ও ইউনি ফ্যাশন লিমিটেড। লাইসেন্স বাতিল হওয়া ছয় প্রতিষ্ঠান হলো: ফোর এইচ ইনটিমেটস লিমিটেড, সীমা গার্মেন্টস লিমিটেড, জেনফোর্ট শুজ বিডি লিমিটেড, ইউনুস্কো ফেব্রিকস ওয়্যার লিমিটেড, টিকেএম গার্মেন্টস লিমিটেড ও ফোর এইচ নিটেক্স লিমিটেড।
লাইসেন্স স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ, আমদানি-রফতানি থাকার পরও দীর্ঘদিন ধরে নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পাদন করছে না। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পাদন করেনি এবং রিপোর্ট জমা দেয়নি। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। কিছু কিছু দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে, তবে প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের আওতায় এক হাজার ৪৫০ প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্স রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪৫ প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও এক হাজার পাঁচটি চালু রয়েছে। গার্মেন্টস খাতে সর্বোচ্চ ৮১৭টির লাইসেন্স রয়েছে। যার মধ্যে ৫২৮ প্রতিষ্ঠান সচল ও ২৮৯টি বন্ধ রয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭৪টি বন্ড লাইসেন্স রয়েছে সিইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড, কোরিয়ান ইপিজেড ও কুমিল্লা ইপিজেডে। এর মধ্যে ২৫ প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও ২৪৯টি চালু রয়েছে। তৃতীয় সর্বোচ্চ এক্সেসরিজ খাতে ২৯৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০৫টি চালু ও ৮৯টি বন্ধ রয়েছে। শিল্প খাতে দুটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স রয়েছে। সে দুটিই সচল রয়েছে। এছাড়া হোম কনজাম্পশন ৪৯ বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৯টি বন্ধ ও ১০টি চালু রয়েছে। ডিপ্লোম্যাটিক আট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি বন্ধ ও পাঁচটি চালু রয়েছে। সুপারভাইজড চার লাইসেন্সের মধ্যে চারটিই সচল এবং হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডিউটি ফ্রি দুটি ডিউটি শপ সচল রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেটের রাজস্ব আহরণের প্রধান উৎস হলো ১০টি হোম কনজাম্পশন বন্ডেড প্রতিষ্ঠান। এ ১০ প্রতিষ্ঠান থেকে জুলাই পর্যন্ত ২২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার মোহাম্মদ আজিজুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, প্রতিষ্ঠান বন্ধ, অডিট সম্পাদন করেনি, অনিয়মে জড়িত এমন প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত ও বাতিল করা হয়েছে। অনিয়ম বন্ধে এনবিআরের নির্দেশে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..