বিশ্ব সংবাদ

নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে উপসাগরীয় উত্তেজনা?

শেয়ার বিজ ডেস্ক: আটক তেলবাহী জাহাজ মুক্ত করে দেওয়ার মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনা কমিয়ে আনতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ব্রিটেন। ওমানের জলসীমা থেকে ওই তেল ট্যাংকার ইরান আটক করেছে বলে অভিযোগ করেছে লন্ডন। তারা একে সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য বলছে। এ নিয়ে দুই দেশের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। খবর: এএফপি।
আটক তেলবাহী ওই ব্রিটিশ জাহাজ ছেড়ে দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করলেও তাতে কর্ণপাত করছে না ইরান। আটক ওই ব্রিটিশ জাহাজটিতে ১৮ ভারতীয় ক্রু রয়েছেন। ইরানের আঞ্চলিক চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র যখন আরও সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তার আগেই ব্রিটিশ তেলবাহী জাহাজ আটক করল তেহরান।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলছে, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন লঙ্ঘনের দায়ে হরমুজ প্রণালি থেকে ব্রিটিশ তেলবাহী জাহাজ স্টেনা ইমপারোকে আটক করা হয়েছে। বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ তেল হরমুজ প্রণালি হয়ে বিভিন্ন দেশে পরিবহন করা হয়; বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ উপসাগরীয় অঞ্চলের এ হরমুজ প্রণালি।
ইরান কর্তৃপক্ষ বলছে, ব্রিটিশ ওই জাহাজকে সমুদ্রসীমা লঙ্ঘনের সময় সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও সীমা লঙ্ঘন করে একটি মাছ ধরার জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ব্রিটিশ জাহাজটি।
সিরিয়ায় ইইউ’র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের দায়ে জিব্রাল্টার প্রণালির কাছে দুই সপ্তাহ আগে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত সমুদ্রসীমায় ইরানের ট্যাংকার গ্রেস-১ আটক করে ব্রিটেন। ওই ট্যাংকারকে আরও এক মাস আটকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ব্রিটেনের একটি আদালত। আদালতের এ নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মাথায় ব্রিটিশ তেলবাহী জাহাজ আটক করা হয়েছে বলে জানায় ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাবেদ জারিফের সঙ্গে আটক জাহাজের মুক্তির ব্যাপারে আলোচনা করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট। একই সঙ্গে ব্রিটেনের জরুরি প্রতিক্রিয়া কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন হান্ট। বৈঠকের পর তিনি বলেন, জাহাজ আটকের এ ঘটনাকে তারা ঢিলের বিনিময়ে পাটকেল পরিস্থিতি হিসেবে দেখছেন।
জেরেমি হান্ট বলেন, গ্রেস-১ বৈধভাবেই আটক করা হয়েছে। কিন্তু সেন্টা ইমপারোকে ওমানি জলসীমা থেকে আটক করেছে ইরান; যা পরিষ্কার আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের লঙ্ঘন। পরে এটিকে ইরানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য।
ব্রিটিশ ওই ট্যাংকার ছেড়ে দিতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি ও ফ্রান্স। ব্রিটিশ জাহাজটি আটকের ঘটনাকে ইরানের ‘বিপজ্জনক আগ্রাসন’ বলে মন্তব্য করেছে বার্লিন; যা এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে মারাত্মক উত্তেজনা তৈরি করেছে।
গত মে মাস থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর মাঝে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। গত মাসে মার্কিন একটি ড্রোন ইরান ভূপাতিত করার জেরে তেহরানে বিমান হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা শুরুর মাত্র ১০ মিনিট আগে সেই নির্দেশ বাতিল করেন তিনি।
উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি আরব ও আমিরাতের তেলবাহী ট্যাংকারে বেশ কয়েকটি হামলায় ইরান জড়িত বলে অভিযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালির কাছ থেকে আটক ব্রিটিশ তেলবাহী জাহাজ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে তারা। ব্রিটিশ ওই জাহাজ আটকের একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে আইআরজিসি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..