প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নীলফামারীতে আমনক্ষেতে পোকার আক্রমণ

শেয়ার বিজ প্রতিনিধি, নীলফামারী: নীলফামারীতে সাম্প্রতিক বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এবার আমন ধানে দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমণ। ফলে ফের লোকসানের মুখে পড়তে যাচ্ছে কৃষক। তবে কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি কর্মকর্তারা দায়সারাভাবে কৃষকদের বুঝ দিচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি বছর নীলফামারীতে এক লাখ ১২ হাজার ৩৪৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে চাষ হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ১০৮ হেক্টর। এবার জেলায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ ৬৯ হাজার ৫৯ দশমিক দুই টন আমন চাল।

ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী, গয়াবাড়ী, ভোডাবুড়ি, পূর্ব ছাতনাই, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুণ্ডা, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নে আগস্টের বন্যায় ৭৫ শতাংশ ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এদিকে নীলফামারী সদরের রামনগর, কচুকাটা, পঞ্চপুকুরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে বন্যায় ধানের বেশিরভাগ চারা পচে গেছে। আবার ওই জমিতে চারা রোপণে তাদের বাড়তি খরচ ও সময় ব্যয় হয়েছে। এতে হেক্টরপ্রতি তাদের খরচ হয়েছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। পোকার আক্রমণে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক।

নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালীপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলী জানান, বন্যাপ্লাবিত জমিতে পলি জমায় বেশ খানিকটা উর্বর ছিল এবং রোপিত ধানের চারা ভালোই হয়েছে। আশা ছিল বিঘাপ্রতি ১৬ থেকে ১৮ মণ ধান হবে। চারায় ধান আশার আগেই পোকার আক্রমণ হওয়ায় কীটনাশক স্প্রে করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। তাই আমন ধানের ফলন নিয়ে হতাশায় আছেন তারা।

সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের বাউনাবাউনি গ্রামের কৃষক মকবুল হোসেন জানান, তার এক বিঘা জমিতে পোকার আক্রমণ হয়েছে। কীটনাশক স্প্রে করেও পোকা দমন করতে পারছেন না। ধানের ফলন ভালো না হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে। প্রতিবছর আমন ধান বিক্রি করে পুরো পরিবারের সারা বছরের খরচ ও ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে হয়।

সদর উপজেলার উপসহাকরী কৃষি কর্মকর্তা ছানারুল ইসলাম জানান, কিছু কিছু আমনক্ষেতে পাতা মোড়ানো পোকা, ব্লাইট ও ব্যাস্টসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। তবে এসব পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বিষয়ে কৃষকদের নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এখন শীত শুরু হয়েছে এসব পোকার আক্রমণ কমে যাবে।

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কেরামত আলী জানান, কিছু এলাকায় আমনক্ষেতে ব্যাকটেরিয়া লিড ব্লাইট, বাদামি গাছ ফড়িং, পাতা মোড়ানো রোগবালাই দেখা দিয়েছে। তবে আগাম জাতের হাইব্রিড ফসলে এসব রোগবালাই দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নানা পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া পোকা দমনে নানা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের। এ ব্যাপারে ইউনিয়নভিত্তিক কৃষক মাঠ স্কুলে আলোচনা সভা, সমাবেশ করা হচ্ছে। এমনকি আলোক ফাঁদ তৈরি করে পোকা দমনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।