সারা বাংলা

নীলফামারীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ

প্রতিনিধি, নীলফামারী: ভাদ্র মাসের শেষে আবহাওয়া ও ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে হঠাৎ করে ঠাণ্ডা, গরম ও কখনও বৃষ্টি হওয়ায় নীলফামারীতে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কালাইটিস ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে ২৪০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ১৪০ জনই শিশু। বাকি ১০০ জনের মধ্যে বয়স্করাও রয়েছেন।
সরেজমিনে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শয্যাসংকটের কারণে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন আজহারুল ইসলাম। তিনি জানান, গত শনিবার সকালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু বিছানা না পেয়ে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখানে শয্যাসংখ্যা ১০টি আর রোগী ভর্তি রয়েছেন ৪১ জন।
আজহারুলের বাবা মো. আছিমুদ্দিন জানান, এখানে পায়খানা ও প্রস্রাবখানার যে অবস্থা তাতে ডায়রিয়া সারা তো দূরের কথা, এখান থেকে ডায়রিয়া নিয়ে বাড়ি যেতে হবে। শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পান করার নেই কোনো স্থান। শৌচাগারের নেই কোনো ব্যবস্থা। শিশুদেরও মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
ওই ওয়ার্ডে ভর্তি উত্তরা ইউপিজেড-সংলগ্ন সংগলসী গ্রামের ১৭ মাস বয়সের শিশু আবদুর রহমান। তার মা শাপলা বেগম জানান, শয্যাসংকটের কারণে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ওয়ার্ডের বাথরুম ময়লায় পরিপূর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী। দুটি ওয়ার্ডে ১০টি শয্যা রয়েছে। শয্যার অভাবে রোগী গাদাগাদি করে মাটিতে পড়ে আছে।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী মোস্তাকিমা জানান, সকালে একবার ডাক্তার এসে দেখে গেছে, সারা দিন একবারও আসেনি। রোগীর সমস্যা হলে কাগজপত্র (ব্যবস্থাপত্র) নিয়ে জরুরি বিভাগের ডাক্তারের কাছে যেতে হয়।
হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ এনামুল হক জানান, ঠাণ্ডা, গরম, বৃষ্টিসহ আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে শিশুরা মানিয়ে নিতে না পারায় প্রথমে পাতলা পায়খানা ও পরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে মায়েদের সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি বয়স্ক ও বৃদ্ধরাও ডায়রিয়া ও ব্রঙ্কালাইটিসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। সমস্যা দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালের আরএমও আবু শফি মাহমুদ জানান, প্রকৃতিক আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগে রোগীর সংখ্যা হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু ডায়রিয়া ওয়ার্ডেই শয্যাসমস্যা নয়, এ সমস্যা হাসপাতালজুড়ে বিরাজমান। এখানে ৫০ শয্যার হাসপাতালের জনবল বা লোকবল দিয়ে ১০০ শয্যার হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। তাই চিকিৎসক ও শয্যাসংকট বরাবরই রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, নির্মীয়মাণ ২৫০ শয্যার ভবনটি চালু হলে এ সংকট কেটে যাবে।
সিভিল সার্জন রণজিৎ কুমার বর্মণ জানান, রোগীদের সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্ত রোগী অনুপাতে শয্যা ও লোকবল কম হওয়ায় আমাদের অনেক সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়। প্রতিদিন আন্তঃবিভাগে ৮০০ ও বহির্বিভাগে ৭০০ রোগীর চিকিৎসা দিতে হয়। ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি চালু হলে এ সমস্যার সমাধান হবে।

সর্বশেষ..