নীলফামারীতে পাউবোর ক্ষতি ১৫ কোটি টাকা

প্রতিনিধি, নীলফামারী: নীলফামারীর ডিমলা ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মহাপরিচালক ফজলুর রশিদ।

গতকাল সকাল থেকে তিনি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শেষে ডালিয়াস্থ পাউবোর সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে বন্যার ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পেরেছেন। মাননীয় মন্ত্রিমহোদয়সহ আমি ঢাকা থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়ে দিক নির্দেশনা দিয়েছি। আজকে মাঠপর্যায়ে এসেছি। এতে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত এসব বাঁধ পুরোনো নকশা অনুযায়ী শিগগিরই মেরামেত করা হবে।’

তিস্তার ডেলটা প্লান বাস্তবায়ন হলে বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ কমবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আট হাজার ২১০ কোটি টাকার ব্যয়ে তিস্তার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ওই টাকার মধ্যে সরকারি একটা অংশ আছে, বাকিটা প্রকল্প সাহায্য হিসাবে বন্ধুপ্রতিম যে সব দাতা সংস্থা আছে তাদের কাছ থেকে আমরা পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যদি আমরা পেয়ে যাই তো ভালো, না হলে ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে এ অঞ্চলের ছোট ছোট নদীগুলো খনন করে পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ড্রেনেজ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে গত বছরসহ পরপর পাঁচটি বন্যা আঘাত হানলেও এ অঞ্চলে বন্যার পানির উচ্চতা বাড়তে পারেনি।’

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, চলতি বন্যায় তিস্তা ব্যারাজের ফ্লাড ফিউজসহ (বাইপাস) কমান্ড এলাকার ১০টি স্থানে ৯৮০ মিটার বাঁধ ধসে গেছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫ কোটি টাকা।

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির ফলে গত বুধবার (২০ অক্টোবর) সকালে ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৬০) ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি চাপে কেটে দেয় ব্যারাজের ফ্লাডবাইপাস। এতে করে ওই ফ্লাডবাইপাসের ৩০০ মিটারসহ ব্যারাজের উজান ও ভাটির বিভিন্ন স্থানে বাধ বিধ্বস্ত হয় ৯৮০ মিটার। এর মধ্যে ব্যারাজের উজানে কালীগঞ্জ গ্রোয়েন বাঁধের ১০০, ছোটখাতা টি-গ্রোয়েন বাঁধের ১০০, তিস্তা বাজার স্পার বাঁধের ৫০, ভাটিতে ভেণ্ডাবাড়ী স্পার বাঁধের ৫০, ভাবনচুন স্পার বাঁধের ৫০, তিস্তা ডানতীর বাঁধ ৮০, ডাউয়াবাড়ী তিস্তার ডানতীর বাঁধ ১০০, শৌলমারী বাঁধের ৫০ ও বালাপাড়া কৈমারীর ১০০ মিটার রয়েছে। এর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১৫ কোটি টাকা।

উত্তরাঞ্চল রংপুরের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ জানান, এবারের বন্যায় পাউবোর ১৫ কোটি টাকা ও কৃষি এবং অন্যান্য স্থাপনাসহ সর্বমোট ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। গত বুধবারের আকস্মিক ওই বন্যা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পাউবোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক একেএম সামছুল আলম, নকশা ও গবেষণা বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনায়েত উল্লাহ, ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদৌলা প্রিন্স প্রমুখ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯৮  জন  

সর্বশেষ..