সারা বাংলা

নীলফামারীতে পানির দামে চামড়া ব

শেয়ার বিজ প্রতিনিধি, নীলফামারী: নীলফামারীতে পানির দামে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশুর চামড়া। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৌসুমি পাইকার ও পাইকার ব্যবসায়ীরা। গতকাল জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়ে।

সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালীপাড়া (সরকারপাড়া) গ্রামের মৌসুমি পাইকার আবদুল হামিদ বলেন, গ্রাম ঘুরে ৫০ পিস গরুর চামড়া কিনে এখন পানির দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের হাত পড়েছে মাথায়।

কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৩৫ হাজার টাকায় ওই চামড়া কিনে এখন বাজারে পাইকাররা দরদাম করছে অর্ধেকের একটু বেশি। চামড়া ভালো রাখার একমাত্র উপকরণ হলো লবণ। সেই লবণও দোকান থেকে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কথা হয় জেলা শহরের বড় বাজার মুদি দোকানদার মো. আছাদুল হক মিলনের সঙ্গে। তিনি বলেন, আড়তদার আমাদের কাজ থেকে লবণের চড়া দাম নিচ্ছে। আড়ত থেকে এক বস্তা লবণ আনতে খরচ পড়ে এক হাজার ৩৫০ টাকা।

এছাড়া লবণ গলে গিয়ে ৭০ কেজি ওজনের বস্তা ৬৫ কেজি হয়। তাই ব্যবসা ঠিক রাখতে লবণের বাজার মূল্য বেশি নিতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। নানা সমস্যার কারণে বর্তমান চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে।

জেলা শহরের বড় বাজারে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বড় সাইজের চামড়া। আর ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। এতে বেশি মূল্যে চামড়া কিনে হাজার হাজার টাকা লোকসানে পড়েছেন মৌসুমি

ব্যবসায়ীরা।

নীলফামারী জেলা শহরের বাড়াইপাড়া মহল্লার মৌসুমি ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন জানান, গ্রামে দুই হাজার ৪০০ টাকা দিয়ে আটটি চামড়া কিনেছি। কিন্তু বাজারে সেগুলো দাম করছে ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা। বাধ্য হয়ে সেগুলো লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। জেলা শহরের স্থানীয় ব্যবসায়ী রাসেদুজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি চামড়ার প্রধান উপকরণ লবণেরও দাম বেশি। তিনি আরও বলেন, ট্যানারির মালিকরা চামড়া কেনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এটাও বাজারে চামড়ার দাম কমার কারণ হতে পারে।

নীলফামারী চেম্বারের সাবেক সভাপতি সফিকুল আলম ডাবলু বলেন, এই চামড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীসহ চারবার হাতবদল হয়। প্রথমে মৌসুমি ব্যবসায়ী গ্রাম ঘুরে কোরবানিদাতার কাজ থেকে কিনে নেন। দ্বিতীয় ধাপে পাইকার বা মধ্যস্থতাকারী নগদ টাকা দিয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিনে নেন। তৃতীয় ধাপে আড়তদাররা লাভের আশায় ঘরে কিছু দিনের জন্য রাখেন। এরপর চামড়াগুলো ট্যানারি মালিকরা কিনে নেন।

তিনি আরও বলেন, চারবার কেনাবেচায় কখনও লোকসান গুনতে হয় না আড়তদার কিংবা ট্যানারির মালিককে। কিন্তু গ্রামের পাড়া-মহল্লায় চামড়া কিনে মাথায় হাত পড়ে (ঝুঁকি) মৌসুমি ও পাইকার ব্যবসায়ীদের। ট্যানারির মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী ও পাইকার। এ দুই পক্ষই লোকসানের মুখে পড়ে।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..