সারা বাংলা

নীলফামারীতে শীতের তীব্রতায় বাড়ছে গরম কাপড় বিক্রি

তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী

কার্তিকের শেষদিকে নীলফামারী জেলায় বেশ ভালোভাবেই অনুভূত হচ্ছে শীত। দিনের পর দিন বেড়েই চলছে শীতের তীব্রতা। সকালে শীতের দাপটে কাঁপছে জেলার খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। বিশেষ করে ডিমলা উপজেলার তিস্তা চরের মানুষ শীত আতঙ্কে রয়েছে। নি¤œ আয়ের মানুষ শীত থেকে বাঁচতে আগাম হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ফুটপাতের দোকানে।

ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত বিপণিবিতানে গরম কাপড়ের চাহিদাও বেড়েছে। শহরের অলিতে-গলিতে কাপড়ের দোকান সাজিয়ে বসেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এসব দোকানে কম দামে বিদেশি পুরোনো গরম কাপড় মিলছে। প্রতিদিন শত শত নারী পুরুষ আনাগোনা করছেন দোকানগুলোতে। সকাল থেকে শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে এসব দোকান। কম পয়সায় পছন্দের গরম কাপড় দেখেশুনে কিনছেন ক্রেতারা।

নীলফামারী শহরে সপ্তাহে দুদিন (বুধবার, রোববার) বড় মাঠে মৌসুমি ব্যবসায়ী ছাড়াও ফুটপাতে দোকান বসে। ফুটপাতের দোকানদার মোতারুল ইসলাম জানান, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের কাছে গরম কাপড় কিনতে আসেন। ১৫ টাকা থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত শীতের কাপড় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে সোয়েটার, ট্রাউজার, জ্যাকেট, মাফলার, মানকি ক্যাপ, প্যান্ট, সার্ট, মোজাসহ হরেক রকমের শীতের কাপড় বিক্রি হচ্ছে। তবে ফুটপাতে নি¤œ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারই বেশি।

বড় মাঠের পুরোনো কাপড়ের দোকানে কথা হয় জেলা শহরের নিউবাবুপাড়ার গৃহিণী শরিফা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, আট সদস্যের পরিবারে ছেলেমেয়ের জন্য অভিজাত দোকান থেকে গরম কাপড় কেনা সম্ভব নয়। তাই পুরাতন কাপড়ের দোকানে এসব কাপড় কিনতে এসেছেন। 

সদরের বাহালীপাড়া গ্রামের মহির উদ্দিন জানান, সাত সদস্যের পরিবারে তিনি একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাই কম দামে খোলা বাজারে গরমের কাপড় নিতে এসেছেন। শীত যতই বাড়ছে ততই শীতের পোশাক বাজারে উঠছে। কম পয়সায় মনের মতো গরম কাপড় পাওয়া যাচ্ছে।

বড়মাঠে সৈয়দপুরের মৌসুমি কাপড় ব্যবসায়ী মোরসালিন জানান, তারা সারা বছর কাপড় নিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে ফেরি করেন। পুরোনো কাপড়ের মহাজনরা চট্টগাম থেকে ট্রাকে করে কাপড় নিয়ে আসেন। তারা কেজি দরে সেগুলো কিনে বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করেন। গরিব মানুষ সস্তায় কাপড় কিনতে পেরে উপকৃত হয়।

নীলফামারী শিল্প ও বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি এসএম শফিকুল আলম ডাবলু বলেন, পুরোনো কাপড় না এলে গরিব ও নি¤œ আয়ের মানুষজন চরম বিপাকে পড়ত। শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে শীতার্ত মানুষের মধ্যে এখন পর্যন্ত শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়নি। তবে যেভাবে শীতের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে, এবার শীত খানিকটা বেশি হবে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এসএ হায়াত বলেন, এবার শীত নিবারণের জন্য ছয় উপজেলা প্রশাসনের কাছে সাত হাজার ৫০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদরে দুই হাজার ১৪০, ডিমলায় এক হাজার, ডোমারে এক হাজার, জলঢাকায় এক হাজার ২০০, কিশোরগঞ্জে এক হাজার ও সৈয়দপুর উপজেলায় এক হাজার ১৬০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এসব কম্বল দ্রুত ইউনিয়ন পর্যায়ে বিতরণ করা হবে। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে শীতবস্ত্রের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ..