সারা বাংলা

নীলফামারীতে সয়াবিনের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা

প্রতিনিধি, নীলফামারী: নীলফামারীতে এক মাসের ব্যবধানে মরিচ, পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের পাশাপাশি ভোজ্যতেলের দাম মণপ্রতি বেড়েছে এক হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত। ভোক্তাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে তেলের দাম বাড়িয়েছেন বড় ব্যবসায়ীরা। পরিবেশক পর্যায়ে ড্রামজাত সয়াবিনের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বোতলজাত তেলের দাম এরই মধ্যে কোম্পানিগুলো বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

জেলা শহরের বড়বাজারের মুদির দোকানদার ও পাইকারি ব্যবসায়ী আবু সাইদ মিলন জানান, আন্তর্জাতিকভাবে ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে।

এছাড়া জেলার স্টেশন সড়কের পাইকারি ব্যবসায়ী তাপস কুমার ভৌমিক জানান, এক মাস আগে পরিবেশক পর্যায়ে প্রতি মণ সুপার পাম (৩৭ কেজি ৩২০ গ্রাম) সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছিল দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৩০০ টাকায়। এ হিসেবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ৬২ টাকা ১৬ পয়সা। কিন্তু গত শুক্রবার তা বিক্রি হয়েছে ৮২ টাকা ৪৩ পয়সায়, যার দাম বেড়েছে তিন হাজার ৫০ টাকা। প্রতি মণে দাম বেড়েছে ৭৫০ টাকা।

এদিকে গত এক মাসে সিটি সয়াবিন, সিটি সুপার ও সিটি পাম প্রতি ড্রাম (১৮৫ কেজি) তেলের দাম ছিল ১৫ হাজার ৮০০ টাকা, যার প্রতি কেজির দাম ছিল ৮৫ টাকা ৪০ পয়সা। শুক্রবার তা বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৯৪ টাকা ৪৯ পয়সায়। এতে কেজিতে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। বর্তমানে এক ড্রাম সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৭ হাজার ৪০০ থেকে ১৭ হাজার ৫০০ টাকায়।

দাম বাড়ার খবরে খুচরা ব্যবসায়ী সেকেন্দার আলী জানান, কোম্পানিগুলো এরই মধ্যে লিটারপ্রতি আট-দশ টাকা দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। মেঘনা গ্রুপের সয়াবিন প্রতি মণ (৩৭ কেজি ৩২০ গ্রাম) তেলের দাম ছিল দুই হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ৭৩০ টাকা। এতে প্রতি কেজির মূল্য দাঁড়ায় ৭৩ টাকা ৭৮ পয়সা। এক মাসের ব্যবধানে ওই তেলের দাম বেড়েছে তিন হাজার ১৩০ টাকা, যার প্রতি কেজির মূল্য দাঁড়ায় ৮৪ টাকা ৫৯ পয়সা। প্রতি কেজি সয়াবিনের মূল্য বেড়েছে ১০ টাকা।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে দাম বাড়ানো উচিত নয় বলে মনে করেন নীলফামারীর চেম্বার অব কমার্সের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফরহানুল হক। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দেশে তেল আসতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই মাস। ডিজিটাল যোগাযোগের কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়ে ভোক্তাদের বিপাকে ফেলেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের উচিত হবে বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..