সারা বাংলা

নীলফামারীর আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার বেহাল

তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী: নীলফামারী শহরের মেলার ডাঙ্গায় (পশু হাসপাতাল সংলগ্ন) ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার। কিন্তু সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে খামারটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।
আমিষের চাহিদা মেটাতে ১৯৮২-৮৩ অর্থবছরে জেলা শহরের মেলার ডাঙ্গায় আট বিঘা জমির ওপর ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে খামারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প নেওয়া হয়, যার মেয়াদ গত বছরের জুনে শেষ হয়েছে। শুরুতেই এখানে ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন। এখন রয়েছেন মাত্র তিনজন। তাদেরও বেতন-ভাতা মাসের পর মাস বকেয়া রয়েছে। বর্তমানে হাঁস প্রজনন খামারটি সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শেখ এম এ মতিন দেখভাল করছেন।
স্থানীয় বাজারে চাহিদা মিটিয়ে এখানকার উৎপাদিত হাঁসের বাচ্চা আশপাশের জেলায় সরবরাহের কথা থাকলেও এখন চড়াদামে হাঁসের ডিম ও মাংস কিনে খেতে হচ্ছে স্থানীয়দের। কেননা সরকারের এই উদ্যোগ স্থানীয় বাজারে মোটেই কাজে আসেনি। বাজারগুলোয় এর কোনো প্রভাব দেখা যায় না। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি এই খামার এখন বেহাল।
খামার সূত্রে জানা যায়, নতুন শেড নির্মাণ, আধুনিক ইনকিউবেটর মেশিন স্থাপন, ব্রুডার হাউজ, চিক গার্ডসহ হ্যাচারি স্থাপন অতি জরুরি। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় কোনোটাই বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এতে সরকারের গচ্ছা যাচ্ছে শতকোটি টাকা।
শেখ এমএ মতিন জানান, খামারের পুকুরে হাঁসের বাচ্চা ও চিক গার্ডারে (ব্রুডার হাউজ) থাকার কথা এক দিনের বাচ্চা। উন্নত জাতের ১০ হাজার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন হাঁসের খামারটিতে বর্তমানে ডিমওয়ালা হাঁস রয়েছে ৪৩০টি ও বাড়ন্ত বাচ্চা রয়েছে মাত্র এক হাজার। ওই প্রকল্পের মেয়াদে যারা চাকরি করেছিলেন তারাও এখন চলে গেছেন। অথচ বেকার সমস্যার সমাধানসহ বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কারণে খামারিদের মধ্যে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বর্তমানে হাঁস প্রজনন খামারটি তাদের গলার কাঁটা।
খামার এলাকার বেলাল হোসেন বলেন, খামারটি সরকারের নজরে এনে স্থানীয় পুষ্টিচাহিদাসহ অসংখ্য বেকার ছেলেমেয়ের আর্থিক ও সামাজিকভাবে উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। এটি একটি সম্ভাবনাময়ী হাঁসের প্রজনন খামার। পাশাপাশি খামার থেকে হাঁসের বাচ্চা সরবরাহ করা হলে খামারিদের বাজার থেকে চড়া দামে এক দিনের বাচ্চা কিনতে হতো না। অল্প দামে স্থানীয়ভাবে বাচ্চা সরবরাহ করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খামার তৈরি করা সম্ভব হতো। স্থানীয় বাজারগুলোয় হাঁসের দাম হুহু করে বেড়েই চলেছে। আর ডিম তো ১২ মাসেই ৩৫-৩৮ টাকায় কিনে খেতে হচ্ছে।
নীলফামারী বড়বাজারের হাঁস ব্যবসায়ী সুধীর চন্দ্র রায় বলেন, গ্রামের বাজার থেকে হাঁস কিনে এনে বাজারে বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে পরিবার চালান। অথচ পাশেই এত বড় খামারে কী হয় জানে না কেউ।
শহরের গাছবাড়ী সড়কের ডালপট্টি এলাকার ডিম ব্যবসায়ী ও হাঁসের বাচ্চা সরবারহকারী ইকবাল হোসেন বলেন, বগুড়া থেকে বাচ্চা সংগ্রহ করে খামারিদের সরবরাহ করেন। অথচ তার বাসার পাশেই খামার ওখানে কী হয় কিছুই জানেন না।
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শেখ এমএ মতিন অব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করে বলেন, পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ে সমস্যার কথা বারবার জানিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। তবে দ্রুত এর সমস্যা সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কারণ প্রাণিসম্পদ সরকারের একটি বড় ধরনের উন্নয়ন খাত। এই খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করা সম্ভব। অপরদিকে স্থানীয় বাজারে এর যথেষ্ট প্রভাব পড়বে। দূর হবে এলাকার শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের বেকার সমস্য।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মোনাক্কা আলী বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় খামারটি ধীর গতিতে চলছে। তবে এটি রাজস্ব খাতে গেলে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব খাতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কথাবার্তা চলছে।

সর্বশেষ..